তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকার কখনোই বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে না। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ – এই নীতিতেই সরকার কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে (পিআইডি) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কথা বললেই কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে আমরা দেশ বিক্রি করে দিচ্ছি, কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
পরবর্তীতে আমন্ত্রণ পেলে তিনি ভারতে যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যাব। আমি এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিতে চাই। যদি যথাযথ আমন্ত্রণ পাই, তবে আমি অবশ্যই ভারতে যাব। আমি ভারতের সঙ্গে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মতভাবে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আমরা বর্তমানে যে অবস্থানে আছি, তা থেকে পিছিয়ে পড়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক যথেষ্ট খারাপ হয়েছিল। সেই সব বিষয় পেছনে ফেলে আমরা পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদান-প্রদান বাড়াতে চাই।
ডা. জাহেদ উল্লেখ করেন, ‘আপনারা জানেন, গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। এই চুক্তি নবায়ন নিয়ে আমাদের আলোচনা রয়েছে। এছাড়াও তিস্তা চুক্তি এবং ৫৩টি অভিন্ন নদী নিয়ে আমাদের কথা বলার আছে। আমাদের ন্যায্য অধিকার রয়েছে এবং এই বিষয়ে ভূমিকা রাখার কোনো সুযোগ পেলে আমি তা লুফে নেব।
তিনি দিল্লির বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হওয়াকে ‘হয়রানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই আমি ওই কাজটি করেছি। আমি চাই, ভারত যেন জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করছে – এই মানসিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসে। যদি আমি কোথাও কোনোভাবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাই বা আমন্ত্রণ পাই, তবে অবশ্যই ভারতে যাব।
ভারত থেকে তার ফিরে আসা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে সেখানে যাইনি। আমি এটিকে ব্যক্তিগতভাবে নিইনি। আমি দেখেছি যে, রাষ্ট্রের একটি সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করা হয়েছে। সেই কারণেই আসলে আমি ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলাম।
রিপোর্টারের নাম 




















