ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

খুলনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ি ভাঙচুর: আসকের উদ্বেগ প্রকাশ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় নদী পুনঃখননকাজে উত্তোলিত মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ির পাশে ও ওপরে ফেলার কারণে শতাধিক পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের বসবাস অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানায়।

আসক মনে করে, নদী পুনঃখননের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ মানুষের জীবন, আবাসন, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে বিপন্ন করে পরিচালিত হতে পারে না। সংবাদে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খননকৃত মাটির চাপে ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে, টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই ঘটনাগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনার অভাব, ঝুঁকি মূল্যায়নে ঘাটতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো, যেসব পরিবার একসময় ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিল এবং রাষ্ট্রের সহায়তায় পুনর্বাসিত হয়েছিল, তারাই এখন আবার বাস্তুচ্যুতি ও অনিরাপদ জীবনের আশঙ্কার মুখে পড়েছে। একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে অন্য একটি রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুতর ব্যর্থতার পরিচায়ক।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে ব্যক্তি-নিরাপত্তা ও আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণাপত্র অনুযায়ীও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের এই অধিকারগুলোকে সম্মান, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে। তারা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলো মেরামত বা পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ‘অসম্ভব চাপ’ অনুভব করছি: প্রধানমন্ত্রী

খুলনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ি ভাঙচুর: আসকের উদ্বেগ প্রকাশ

আপডেট সময় : ১০:৪১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় নদী পুনঃখননকাজে উত্তোলিত মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ির পাশে ও ওপরে ফেলার কারণে শতাধিক পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের বসবাস অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানায়।

আসক মনে করে, নদী পুনঃখননের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ মানুষের জীবন, আবাসন, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে বিপন্ন করে পরিচালিত হতে পারে না। সংবাদে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খননকৃত মাটির চাপে ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে, টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই ঘটনাগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনার অভাব, ঝুঁকি মূল্যায়নে ঘাটতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো, যেসব পরিবার একসময় ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিল এবং রাষ্ট্রের সহায়তায় পুনর্বাসিত হয়েছিল, তারাই এখন আবার বাস্তুচ্যুতি ও অনিরাপদ জীবনের আশঙ্কার মুখে পড়েছে। একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে অন্য একটি রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুতর ব্যর্থতার পরিচায়ক।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে ব্যক্তি-নিরাপত্তা ও আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণাপত্র অনুযায়ীও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের এই অধিকারগুলোকে সম্মান, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে। তারা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলো মেরামত বা পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।