নবগঠিত বিএনপি সরকারের পেশকৃত প্রথম বাজেটটি গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নতুনত্বের ছোঁয়া নিয়ে এসেছে। এতে একদিকে যেমন ‘জনবান্ধব’ নীতির প্রতিফলন ঘটেছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে ‘পপুলিস্ট’ বা জনপ্রিয়তাবাদী পদক্ষেপের অভিযোগও উঠছে।
বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং বহু ক্ষেত্রে শুল্ক ও ভ্যাট হ্রাসের মতো ইতিবাচক দিকগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একই সাথে, ফ্রিল্যান্সার থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে, যা একটি ‘পপুলিস্ট’ বাজেটের ইঙ্গিত দেয়। তবে, বাজেটThe financing plan raises concerns regarding its sustainability. National Board of Revenue (NBR) has set an unrealistic revenue target, exceeding its capacity by over 1.5 lakh crore taka, which may question the budget’s credibility by the end of the fiscal year.
কৌশলগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকার নতুন ধারণা পরীক্ষা করার একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রাজস্ব আদায়ে চলমান সংকটের মধ্যে ৪০% রাজস্ব বৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অতীতের সর্বোচ্চ রেকর্ড ১৫-১৬% থেকে অনেক বেশি। করের আওতা (tax net) সেভাবে না বাড়লেও করের ভিত্তি (tax base) সম্প্রসারণের চেষ্টা রয়েছে। যদিও সরকার শুরুতে করের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে সরে এসেছে। করের ভিত্তিতে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ৪০% রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ইতিবাচক, তবে এক অর্থবছরের মধ্যে এই ডিজিটাইজেশন বাস্তবায়ন বেশ কঠিন। কিছু অপ্রয়োজনীয় ছাড় দিয়ে সরকার নিজের করের আওতা ও ভিত্তি সংকুচিত করেছে। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে এটি একটি বড় সাফল্য হবে, অন্যথায় রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরকারকে বড় বিপদে ফেলতে পারে।
সার্বিকভাবে, বাজেট প্রস্তাবনা আকর্ষণীয় এবং গণমুখী হলেও এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার রাজস্ব আদায়ে একটি সাহসী পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। মাত্র এক অর্থবছরে ২ লক্ষ কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে এনবিআর-এর লক্ষ্যমাত্রা ১ লক্ষ ৭৪ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হলে সরকারের জন্য এটি একটি বিশাল সাফল্য হবে এবং আগামী চার বছরের সরকার পরিচালনার ভিত্তি মজবুত হবে।
তবে, বাস্তবতার নিরিখে, দেশের মোট রাজস্ব साढ़े পাঁচ লক্ষ থেকে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা অবাস্তব। মাত্র এক অর্থবছরেই রাজস্ব আদায় সোয়া দুই লক্ষ থেকে আড়াই লক্ষ কোটি টাকা বাড়ানো একটি বড় আশা এবং একই সাথে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির সর্বোচ্চ রেকর্ড বছরে ১৫-১৬%। ৪০% প্রবৃদ্ধি অর্জনের কোনো নজির নেই, বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং ডিজিটাল অবকাঠামো ছাড়াই।
রিপোর্টারের নাম 
























