শিক্ষা খাতে বিপুল বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কওমি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির এবং ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান চরম বৈষম্যের কথাও তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উপলক্ষে কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সেলিম উদ্দিন এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, কোরআন চর্চা এবং মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকাকে মসজিদের নগরী হিসেবে অভিহিত করা হলেও, এই শহরের উন্নয়নে আলেম-ওলামা ও হাফেজদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেলিম উদ্দিন জোর দিয়ে বলেন যে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আলেম সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় সমাজে ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তবে, দুঃখজনকভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না এবং হাফেজদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শিক্ষা খাতের বৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কওমি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসাগুলোতে বিপুল সংখ্যক এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। অথচ তাদের উন্নয়নে পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় বাজেট এবং কার্যকর পরিকল্পনা নেই। তিনি সরকারের প্রতি কওমি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এছাড়াও, তিনি সীমান্তে চলমান পুশইন ইস্যুতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবের সমালোচনা করেন এবং জাতীয় সংসদে পর্দা (হিজাব) নিয়ে কটাক্ষের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। সেলিম উদ্দিন বলেন, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশে সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারকে আরও দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আরও জানান যে ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে কমপক্ষে এক লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। হাফেজ ও ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমাজ ও নগর উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এই প্রতিযোগিতায় ওমরাহ হজসহ মোট ৪৫ লাখ টাকার পুরস্কার রাখা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের কুরআন শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিপোর্টারের নাম 























