ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বর্ষার শুরুতে ভ্যাপসা গরম, ১৩ জেলায় তাপপ্রবাহের শঙ্কা

ষড়ঋতুর দেশে আষাঢ়ের শুরুতেই প্রকৃতিতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অঝোর ধারায় বৃষ্টির প্রত্যাশা থাকলেও দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরম ছড়িয়ে পড়েছে। আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলেও তা স্বস্তি দিচ্ছে না। থেমে থেমে বৃষ্টি এবং রাস্তায় পানি জমলেও বাতাসে রয়ে যাচ্ছে সেই চিরচেনা অস্বস্তিকর গরম। খেটে খাওয়া মানুষেরা বলছেন, গায়ে ঘাম জমে থাকছে, ফ্যান চললেও আরাম মিলছে না।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জুনে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার পর যে বৃষ্টি হয়, তাকে তারা ‘উষ্ণ বৃষ্টি’ বলেন। এই বৃষ্টি বায়ুমণ্ডলের নিচু স্তরে তৈরি হয় এবং বৃষ্টির পানির তাপমাত্রাও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ফলে বৃষ্টির পর বাতাস ঠান্ডা না হয়ে বরং জলীয়বাষ্প বেড়ে ভ্যাপসা গরম আরও বাড়িয়ে দেয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, বর্তমানে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি এবং বাতাসের গতিবেগ কিছুটা কম। এই কারণে বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে, যা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকও একই মত প্রকাশ করে বলেন, এ সময়ে গরমের অনুভূতি বেশি হওয়ার মূল কারণ বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি। এই সময়ের বৃষ্টির বৈশিষ্ট্যই হলো বৃষ্টির পর শীতলতার রেশ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না।

অন্যদিকে, আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আমার দেশকে জানান, বর্ষা শুরু আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকে নয়, বরং জুনের প্রথম দিন থেকে। সেদিক থেকে জুনের প্রথম থেকে বেশ কয়েকদিন ভালোই বৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি নানা কারণে আবারো তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে এবং তা আরও দুই-তিনদিন থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতে আবহাওয়া আরামদায়ক না হয়ে ভ্যাপসা গরম কেন বাড়ছে, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সময়ে বৃষ্টি হলেও তা অনেকটাই উষ্ণ বৃষ্টি হচ্ছে। মেঘমালা ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি অবস্থান করায় বৃষ্টি হলেও তা শীতলতা বয়ে আনছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ের প্রলোভনে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে, প্রেমিকের বাড়িতে এক সন্তানের জননীর অনশন

বর্ষার শুরুতে ভ্যাপসা গরম, ১৩ জেলায় তাপপ্রবাহের শঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:৪২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ষড়ঋতুর দেশে আষাঢ়ের শুরুতেই প্রকৃতিতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অঝোর ধারায় বৃষ্টির প্রত্যাশা থাকলেও দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরম ছড়িয়ে পড়েছে। আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলেও তা স্বস্তি দিচ্ছে না। থেমে থেমে বৃষ্টি এবং রাস্তায় পানি জমলেও বাতাসে রয়ে যাচ্ছে সেই চিরচেনা অস্বস্তিকর গরম। খেটে খাওয়া মানুষেরা বলছেন, গায়ে ঘাম জমে থাকছে, ফ্যান চললেও আরাম মিলছে না।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জুনে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার পর যে বৃষ্টি হয়, তাকে তারা ‘উষ্ণ বৃষ্টি’ বলেন। এই বৃষ্টি বায়ুমণ্ডলের নিচু স্তরে তৈরি হয় এবং বৃষ্টির পানির তাপমাত্রাও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ফলে বৃষ্টির পর বাতাস ঠান্ডা না হয়ে বরং জলীয়বাষ্প বেড়ে ভ্যাপসা গরম আরও বাড়িয়ে দেয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, বর্তমানে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি এবং বাতাসের গতিবেগ কিছুটা কম। এই কারণে বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে, যা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকও একই মত প্রকাশ করে বলেন, এ সময়ে গরমের অনুভূতি বেশি হওয়ার মূল কারণ বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি। এই সময়ের বৃষ্টির বৈশিষ্ট্যই হলো বৃষ্টির পর শীতলতার রেশ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না।

অন্যদিকে, আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আমার দেশকে জানান, বর্ষা শুরু আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকে নয়, বরং জুনের প্রথম দিন থেকে। সেদিক থেকে জুনের প্রথম থেকে বেশ কয়েকদিন ভালোই বৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি নানা কারণে আবারো তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে এবং তা আরও দুই-তিনদিন থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতে আবহাওয়া আরামদায়ক না হয়ে ভ্যাপসা গরম কেন বাড়ছে, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সময়ে বৃষ্টি হলেও তা অনেকটাই উষ্ণ বৃষ্টি হচ্ছে। মেঘমালা ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি অবস্থান করায় বৃষ্টি হলেও তা শীতলতা বয়ে আনছে না।