ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

মোহাম্মদপুরে বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় মানারাত ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র নিহত, পরিবারে শোকের ছায়া

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্র মো. আবু জোবায়ের (২২) নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) রাত প্রায় ১১টার দিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বেপরোয়া গতিতে আসা একটি ট্রাক পেছন থেকে রিকশাটিকে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

জোবায়েরের মৃত্যুতে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী শুধু একজন মেধাবী ছাত্রই ছিলেন না, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন ‘মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ডিবেট ক্লাব (এমআইইউডিসি)’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে সাফল্য অর্জন করেছিলেন। তাঁর মেধা, ভদ্রতা ও আন্তরিকতার জন্য তিনি শিক্ষক, সহপাঠী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন।

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগীরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবু জোবায়েরের বাবা মো. আবুল কালাম আজাদ একজন কৃষক এবং মা জহুরা বেগম গৃহিণী। পরিবারে তিনি ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর বড় ভাই কয়েক বছর আগে মারা গেছেন এবং ছোট ভাই বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। জোবায়েরের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর মা জহুরা বেগম সকলের কাছে তাঁর সন্তানের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

পরিবারের এক সদস্য জানান, জোবায়ের মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় খালার বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন। ঘটনার রাতে তিনি আরও দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন। দ্রুতগামী একটি ট্রাক পেছন থেকে তাদের রিকশাটিকে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে জোবায়ের গুরুতর আহত হন এবং অন্য দুজন সামান্য আঘাত পান। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট: জনবান্ধব নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?

মোহাম্মদপুরে বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় মানারাত ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র নিহত, পরিবারে শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্র মো. আবু জোবায়ের (২২) নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) রাত প্রায় ১১টার দিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বেপরোয়া গতিতে আসা একটি ট্রাক পেছন থেকে রিকশাটিকে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

জোবায়েরের মৃত্যুতে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী শুধু একজন মেধাবী ছাত্রই ছিলেন না, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন ‘মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ডিবেট ক্লাব (এমআইইউডিসি)’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে সাফল্য অর্জন করেছিলেন। তাঁর মেধা, ভদ্রতা ও আন্তরিকতার জন্য তিনি শিক্ষক, সহপাঠী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন।

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগীরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবু জোবায়েরের বাবা মো. আবুল কালাম আজাদ একজন কৃষক এবং মা জহুরা বেগম গৃহিণী। পরিবারে তিনি ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর বড় ভাই কয়েক বছর আগে মারা গেছেন এবং ছোট ভাই বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। জোবায়েরের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর মা জহুরা বেগম সকলের কাছে তাঁর সন্তানের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

পরিবারের এক সদস্য জানান, জোবায়ের মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় খালার বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন। ঘটনার রাতে তিনি আরও দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন। দ্রুতগামী একটি ট্রাক পেছন থেকে তাদের রিকশাটিকে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে জোবায়ের গুরুতর আহত হন এবং অন্য দুজন সামান্য আঘাত পান। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।