মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির নাটকীয় মোড় দেশের শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির আমেরিকান প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক ও উদ্বেগের সাময়িক অবসান ঘটে। এর ফলে, দেশের শেয়ারবাজারে বিগত কয়েকদিন ধরে বিরাজমান অস্থিরতা দূর হয়ে এক ধরনের উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। বুধবারের লেনদেনে এই চিত্রই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তিনটি সূচকেরই বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৩.১২ শতাংশ। লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেড়ে দিনশেষে ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত দেড় মাসের মধ্যে ডিএসইর সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২২২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, এই যুদ্ধবিরতির পর একটি স্থায়ী সমাধানের পথ মিলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও বাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি না আসার পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় কোনো পরিবর্তন না হওয়া এবং এ সংক্রান্ত সরকারের স্পষ্ট অবস্থানের অভাবকে কারণ হিসেবে দেখছেন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে।
জনাব লালী আরও বলেন, নতুন কমিশন নিয়োগ দেওয়া হলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া উচিত, যাতে আইন-কানুন সম্পর্কে তাঁরা দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। গতকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, লেনদেনের শুরুতে সূচকের বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয় এবং দিনের শুরুতেই ডিএসইএক্স ৫ হাজার ১৫৬ পয়েন্ট থেকে ১৪০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত শেয়ার ক্রয়ের চাপ বজায় থাকায় সূচকের এই বড় উল্লম্ফন ঘটে।
রিপোর্টারের নাম 
























