ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

যুদ্ধের ক্ষতি সত্ত্বেও পারমাণবিক আলোচনায় আত্মবিশ্বাসী ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর পারমাণবিক আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে তুলে ধরছে ইরান। যুদ্ধের সময় উল্লেখযোগ্য সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়লেও দেশটির নেতারা এই সমঝোতাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রচার করছেন।

যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক সমঝোতার পর ইরানের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সামরিক কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব একে দেশের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান চূড়ান্ত বিজয়ের পথে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। একইভাবে সরকারের কার্যক্রম তদারককারী শক্তিশালী পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেঘ আমোলি লারিজানি দাবি করেন, ইরানিরা নতুন করে প্রতিরোধের চেতনা প্রদর্শন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, যুদ্ধের সময় ইরান তাদের বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হারিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং নৌ অবরোধের কারণে অর্থনীতির ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও দেশটির নেতৃত্ব মনে করছে, চুক্তির শর্তাবলি যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্য ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ এবং ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। কিছু বাস্তববাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিহত হওয়ায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যও ইরানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন এবং বর্তমান ইরানি নেতৃত্বকে তুলনামূলকভাবে ‘বাস্তববাদী’ বলে উল্লেখ করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করা হতে পারে, যা যুদ্ধের আগে প্রচলিত ছিল না। মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইরান বিশেষজ্ঞ মেহরজাদ বোরুজেরদি বলেন,

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসি ও সিসি ক্যামেরার আড়ালে মাদক সাম্রাজ্য: নোয়াখালীতে বিলাসবহুল আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

যুদ্ধের ক্ষতি সত্ত্বেও পারমাণবিক আলোচনায় আত্মবিশ্বাসী ইরান

আপডেট সময় : ১১:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর পারমাণবিক আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে তুলে ধরছে ইরান। যুদ্ধের সময় উল্লেখযোগ্য সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়লেও দেশটির নেতারা এই সমঝোতাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রচার করছেন।

যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক সমঝোতার পর ইরানের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সামরিক কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব একে দেশের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান চূড়ান্ত বিজয়ের পথে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। একইভাবে সরকারের কার্যক্রম তদারককারী শক্তিশালী পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেঘ আমোলি লারিজানি দাবি করেন, ইরানিরা নতুন করে প্রতিরোধের চেতনা প্রদর্শন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, যুদ্ধের সময় ইরান তাদের বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হারিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং নৌ অবরোধের কারণে অর্থনীতির ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও দেশটির নেতৃত্ব মনে করছে, চুক্তির শর্তাবলি যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্য ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ এবং ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। কিছু বাস্তববাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিহত হওয়ায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যও ইরানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন এবং বর্তমান ইরানি নেতৃত্বকে তুলনামূলকভাবে ‘বাস্তববাদী’ বলে উল্লেখ করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করা হতে পারে, যা যুদ্ধের আগে প্রচলিত ছিল না। মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইরান বিশেষজ্ঞ মেহরজাদ বোরুজেরদি বলেন,