চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পটি অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে, যা দক্ষিণ চট্টগ্রামের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১ লাখ লোকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বস্ত্র, ওষুধ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন উৎপাদন খাতে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এই প্রকল্পকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে আনোয়ারা, কর্ণফুলী এবং পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং আবাসন খাতের বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা দেশজ উৎস থেকে এবং ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে। ২০১৪ সালে চীন সরকার ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হলেও ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরও বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘ বছর ধরে স্থবির ছিল। প্রথমে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে (সিএইচইসি) ডেভেলপার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় কাজ এগোয়নি। পরবর্তীতে ২০২২ সালে চীন সরকারের মনোনয়নে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনকে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং বেজা জানিয়েছে যে সিআরবিসি-র সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কর্ণফুলী টানেলের সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে এই চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৮০০ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলটি দুই দেশের সরকারের (জিটুজি) সমঝোতার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের শিল্পায়নে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।
রিপোর্টারের নাম 


















