ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তি যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানের সম্ভাবনা তৈরি করলেও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো ছিল, সেখানে সহজে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ভারসাম্যকেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবর্তনের পথে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো নতুন বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো কয়লার ব্যবহার বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর ও বায়ুশক্তির দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব। পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের সহজলভ্যতা এই রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনে বায়ু ও সৌরশক্তি প্রথমবারের মতো গ্যাসকে ছাড়িয়ে গেছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলোর সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ার পর আমিরাত ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ভবিষ্যতে তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। যুদ্ধের সময় রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় দেশটি তেল রপ্তানি থেকে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা ও গায়ানাও তেল উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা যায়।

বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার অবস্থানে রয়েছে চীন। সৌর প্যানেল, বায়ু টারবাইন, ব্যাটারি, ট্রান্সফর

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসি ও সিসি ক্যামেরার আড়ালে মাদক সাম্রাজ্য: নোয়াখালীতে বিলাসবহুল আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন

আপডেট সময় : ১১:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তি যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানের সম্ভাবনা তৈরি করলেও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো ছিল, সেখানে সহজে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ভারসাম্যকেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবর্তনের পথে ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো নতুন বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো কয়লার ব্যবহার বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর ও বায়ুশক্তির দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব। পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের সহজলভ্যতা এই রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনে বায়ু ও সৌরশক্তি প্রথমবারের মতো গ্যাসকে ছাড়িয়ে গেছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলোর সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ার পর আমিরাত ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ভবিষ্যতে তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। যুদ্ধের সময় রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় দেশটি তেল রপ্তানি থেকে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা ও গায়ানাও তেল উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা যায়।

বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার অবস্থানে রয়েছে চীন। সৌর প্যানেল, বায়ু টারবাইন, ব্যাটারি, ট্রান্সফর