মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র মুখগহ্বর থেকে শুরু হয়ে পায়ুপথ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দীর্ঘ পথে বিভিন্ন অঙ্গে, বিশেষ করে জিহ্বা, খাদ্যনালি এবং পায়ুপথে ক্যানসার দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না, ফলে জটিলতা বৃদ্ধি পায়। তাই জিহ্বা ও মুখগহ্বরের ক্যানসারের লক্ষণ, বিস্তার এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
জিহ্বা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পেশল অঙ্গ, যা স্বাদ গ্রহণ, কথা বলা এবং খাবার গিলতে সাহায্য করে। জিহ্বার উপরিভাগে থাকা প্যাপিলার মধ্যে অবস্থিত স্বাদগ্রাহী কোষগুলো বিভিন্ন স্বাদ শনাক্ত করে। যদিও পূর্বে ধারণা ছিল জিহ্বার নির্দিষ্ট অংশে নির্দিষ্ট স্বাদ অনুভূত হয়, তবে আধুনিক গবেষণা বলছে পুরো জিহ্বাই প্রায় সব ধরনের স্বাদ গ্রহণ করতে সক্ষম।
জিহ্বার ক্যানসার সাধারণত মুখগহ্বরের ক্যানসারের অংশ এবং এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা হিসেবে চিহ্নিত হয়। এই ক্যানসার প্রথমে জিহ্বার কোষে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে তা আশপাশের টিস্যু, গলার লিম্ফ নোড এবং রক্তের মাধ্যমে শরীরের দূরবর্তী অঙ্গে, যেমন ফুসফুস বা লিভারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তামাক ও ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, মুখের অপর্যাপ্ত পরিচর্যা এবং হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) সংক্রমণ জিহ্বার ক্যানসারের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ।
জিহ্বা বা মুখগহ্বরের ক্যানসারে আক্রান্ত হলে লালার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়, যা অনেক সময় রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত বহন করে। এই পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে লালা ঘন, আঠালো বা সান্দ্র হয়ে যাওয়া; লালা কমে গিয়ে মুখ শুকিয়ে যাওয়া; লালায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়া; এবং কিছু ক্ষেত্রে রক্তমিশ্রিত লালা দেখা যাওয়া। এছাড়াও, খাবারে অরুচি বা স্বাদের বিকৃতি ঘটতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো মূলত ক্যানসার কোষের কারণে লালাগ্রন্থির কার্যকারিতা হ্রাস, টিস্যুর ক্ষতি এবং সংক্রমণের ফলে ঘটে থাকে।
জিহ্বার বিভিন্ন অংশের মধ্যে পাশের অংশে ক্যানসার বেশি দেখা যায়। জিহ্বায় প্রধানত তিন ধরনের ক্যানসার হয়: স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা (যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়), অ্যাডেনোকার্সিনোমা এবং বিরল ক্ষেত্রে লিম্ফোমা। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণগুলো খুব স্পষ্ট না হলেও, যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।
রিপোর্টারের নাম 




















