দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে। গত বছরের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এফডিআই প্রায় ২৬ শতাংশ কমেছে। তবে, আগের তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তুলনায় ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এফডিআইয়ে মন্দাভাব চলছিল। বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার না হওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ও উচ্চ সুদহারের মতো কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসেনি। ফলে এই সময়ে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হননি এবং দেশে নতুন বিনিয়োগও হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে নিট এফডিআই এসেছে ৩৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৪৯ কোটি ডলার। সে অনুযায়ী, বছরের ব্যবধানে বিদেশি বিনিয়োগ ২৫ দশমিক ৮১ শতাংশ কমেছে। তবে, তিন মাসের ব্যবধানে বিনিয়োগ ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
একটি নির্দিষ্ট বছরে মোট বিদেশি বিনিয়োগ বলতে বাইরের উদ্যোক্তাদের নতুন পুঁজি, বিদ্যমান বিনিয়োগের মুনাফা থেকে পুনর্বিনিয়োগ এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণের সমষ্টিকে বোঝানো হয়। পুঁজি প্রত্যাহার, মূল কোম্পানিকে ঋণ প্রদান এবং আন্তঃকোম্পানি ঋণ পরিশোধ বাদ দিয়ে নিট বিনিয়োগ হিসাব করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের শেষ তিন মাসে নিট নতুন বিনিয়োগ বা ইক্যুইটি এসেছে ১০ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। আগের বছর একই সময়ে ইক্যুইটি বিনিয়োগ ছিল ১৩ কোটি ২৮ লাখ ডলার। তবে, তিন মাসের ব্যবধানে ইক্যুইটি বিনিয়োগ ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া, গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে নিট এফডিআইয়ের ২১ কোটি ডলার এসেছে পুনর্বিনিয়োগ আয় থেকে।
রিপোর্টারের নাম 
























