ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য প্রদানে বাধা, ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ ওরফে সোহাগ আলী অভিযোগ করেছেন যে তার বক্তব্য বিকৃত করা হচ্ছে এবং তাকে সাক্ষ্য দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

সোহাগ আলী জানান, তিনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান আন্দোলন শুরু থেকে শহীদ আবু সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন এবং পুলিশের গুলিতে তার শহীদ হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পাশে ছিলেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে তিনি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই সহযোগিতা করেছেন এবং সাক্ষ্য দিতে সর্বদা প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ায় তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় রংপুরের তাজহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে মামলাটির তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে থাকলেও, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের শুরুতে মামলাটি পিবিআই থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়।

সোহাগ আলী আরও জানান, তিনি একাধিকবার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং মৌখিক জবানবন্দি ও বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে মামলার সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাকলে, তিনি সাক্ষীদের রেকর্ড বইয়ে তার নামে একটি খসড়া দেখতে পান। খসড়াটি পড়ার পর তিনি দেখতে পান যে এটি তার প্রকৃত বক্তব্য ও অবস্থানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং এই খসড়ার ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রদানে আপত্তি জানান। এর প্রেক্ষিতে তার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয় এবং তাকে পুনরায় ডাকা হবে বলে জানানো হয়। তবে অদ্যাবধি তাকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল থেকে সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে ডাকা হয়নি। তিনি এই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, বৈঠক নিয়ে কাটছে না ধোঁয়াশা

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য প্রদানে বাধা, ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ ওরফে সোহাগ আলী অভিযোগ করেছেন যে তার বক্তব্য বিকৃত করা হচ্ছে এবং তাকে সাক্ষ্য দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

সোহাগ আলী জানান, তিনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান আন্দোলন শুরু থেকে শহীদ আবু সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন এবং পুলিশের গুলিতে তার শহীদ হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পাশে ছিলেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে তিনি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই সহযোগিতা করেছেন এবং সাক্ষ্য দিতে সর্বদা প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ায় তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় রংপুরের তাজহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে মামলাটির তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে থাকলেও, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের শুরুতে মামলাটি পিবিআই থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়।

সোহাগ আলী আরও জানান, তিনি একাধিকবার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং মৌখিক জবানবন্দি ও বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে মামলার সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাকলে, তিনি সাক্ষীদের রেকর্ড বইয়ে তার নামে একটি খসড়া দেখতে পান। খসড়াটি পড়ার পর তিনি দেখতে পান যে এটি তার প্রকৃত বক্তব্য ও অবস্থানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং এই খসড়ার ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রদানে আপত্তি জানান। এর প্রেক্ষিতে তার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয় এবং তাকে পুনরায় ডাকা হবে বলে জানানো হয়। তবে অদ্যাবধি তাকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল থেকে সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে ডাকা হয়নি। তিনি এই ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।