ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সমালোচনা: অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে শোকজ

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার জেরে অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের এই কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের কয়েকজন কর্মকর্তা এই চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করে তারা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের জারি করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার-সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করেছেন, যা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য। এছাড়াও, এই কার্যকলাপ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ২ (চ) (২) অনুযায়ী চাকরির শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর কার্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ৩ (২) অনুযায়ী বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে পত্র প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিচারক জানিয়েছেন, তারা কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্য করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারকে ভুল বোঝানো হয়েছে। তারা মনে করেন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশসহ স্বাধীন বিচার বিভাগের নানা ইস্যুতে বিচারকদের জোটবদ্ধ প্রচেষ্টাকে আতঙ্কিত করতেই এই শোকজ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, বৈঠক নিয়ে কাটছে না ধোঁয়াশা

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সমালোচনা: অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে শোকজ

আপডেট সময় : ১০:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার জেরে অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের এই কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের কয়েকজন কর্মকর্তা এই চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করে তারা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের জারি করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার-সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করেছেন, যা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য। এছাড়াও, এই কার্যকলাপ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ২ (চ) (২) অনুযায়ী চাকরির শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর কার্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ৩ (২) অনুযায়ী বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে পত্র প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিচারক জানিয়েছেন, তারা কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্য করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারকে ভুল বোঝানো হয়েছে। তারা মনে করেন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশসহ স্বাধীন বিচার বিভাগের নানা ইস্যুতে বিচারকদের জোটবদ্ধ প্রচেষ্টাকে আতঙ্কিত করতেই এই শোকজ দেওয়া হয়েছে।