দেশজুড়ে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জ্বালানির তীব্র সংকট এবং পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে বাসের নিয়মিত সময়সূচি বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে বিভিন্ন রুটের বাসের সময়সূচি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের দীর্ঘক্ষণ পরও বাস না আসায় শিক্ষার্থীদের গরম রোদে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রতি ট্রিপে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে যাতায়াত করছেন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের পাদানিতে ঝুলে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিন তাদের এই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ১৩টি ভাড়ায় চালিত ডাবল ডেকার বাস এবং ১১টি নিজস্ব বাস রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে সময়মতো তেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাইজদী ও সোনাপুর রুটে যেখানে আগে প্রতি ঘণ্টা অন্তর বাস চলাচল করত, সেখানে বর্তমানে অনেক ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে পরিবহনের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, পরিবহন সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে না পারায় নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরুপায় হয়ে নির্ধারিত ক্লাস বাতিল করতে হচ্ছে বিভাগগুলোকে।
ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রথম বর্ষ থেকে শুরু করে শেষ বর্ষে এসেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বাসের সময়সূচি বিপর্যয় এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বারবার আশ্বাস দিলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এই সমস্যার সমাধানে পরিবহন পুলকে যথাযথ তদারকির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. কাওসার হোসেন বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি বাস সেবা সচল রাখতে। কিন্তু জ্বালানি সংকট এবং বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
রিপোর্টারের নাম 

























