ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাবস্থায় গোটা মধ্যপ্রাচ্য এখন চরম অস্থিতিশীল। এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন—এই ছয়টি উপসাগরীয় দেশ থেকে। বর্তমানে এসব দেশে ৬০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত থাকলেও যুদ্ধাবস্থায় নির্মাণ ও সেবা খাতের নতুন প্রকল্প থমকে গেছে। ফলে কাজ হারানো, বেতন বিলম্বিত হওয়া এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রবাসীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০.৩ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৩.৬ বিলিয়নই ছিল এই ছয় দেশ থেকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ২৬.২ বিলিয়ন ডলার আসলেও আগামী মাসগুলোতে এই ধারা বজায় থাকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
রামরুর চেয়ারম্যান তাসনিম সিদ্দিকী এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিকদের ফিরে আসার হার বাড়ছে। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের তথ্যমতে, গত ১৫ দিনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। দুবাই ও সৌদি আরব প্রবাসী শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, কোম্পানিগুলো এখন অর্ধেক বেতন দিচ্ছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে টাকা পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এম হেলাল আহম্মেদ খানের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে নতুন কর্মী বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি হবে। ২০২৫ সালে দেশ রেকর্ড ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেলেও ২০২৬ সালের চিত্রটি যুদ্ধের কারণে নেতিবাচক হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার ওপর জোর দিয়েছেন। গত পাঁচ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪২ লাখ শ্রমিক গেলেও ইউরোপের ২৮টি দেশে গেছেন মাত্র ৭৫ হাজার ৬৬৮ জন। অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, জাপান ও ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে পারলে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশে সমঝোতা স্মারক (MoU) পাঠিয়েছে এবং মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে নতুন বাজার খোলার চেষ্টা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক এই সংকটের মুখে দ্রু
রিপোর্টারের নাম 

























