ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মামলা: নতুন সিএমপি কমিশনারের অগ্রগতি বিষয়ক তথ্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ৮২ থেকে ৯০ শতাংশ অগ্রগতি লাভ করেছে। বৃহস্পতিবার নগর পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে মোট ১৫১টি মামলার মধ্যে ৬৯টি মামলা নগর ও জেলার ৯টি থানায় দায়ের হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আদালতে সরাসরি নালিশি (সিআর) হিসেবে দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ১৩ হাজার ৪৫০ জন নাম উল্লেখসহ এবং অন্তত ৩০ হাজার অজ্ঞাত আসামি রয়েছে।

মামলাগুলোতে আসামী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। থানায় দায়ের হওয়া ৬৯টি মামলায় মোট ২১ হাজার ৯০৬ জন আসামি রয়েছেন, যার মধ্যে ১৫টি হত্যা মামলা। একটি মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী আরও বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছেন এবং তাদের ওপর কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে না। এই কারণেই কিছু মামলার প্রতিবেদন জমা দিতে কিছুটা সময় লাগছে।

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের বিষয়ে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী কমিশনারের অনুরোধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং তিনিও এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। তিনি নগরীকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হতে দেবেন না এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানান।

অন্যদিকে, আন্দোলনের ঘটনার পর ২০ মাস অতিবাহিত হলেও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর অগ্রগতি ধীরগতিতে হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার তদন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে এবং সাক্ষীদের হাজির করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মামলার খোঁজখবর নেওয়া হলেও নতুন সরকার আসার পর সেই তৎপরতা কমে গেছে। তাদের আরও অভিযোগ, মামলার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনও প্রদান করা হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবন সীমান্তে বিএসএফের পুশইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির কড়া নজরদারি

চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মামলা: নতুন সিএমপি কমিশনারের অগ্রগতি বিষয়ক তথ্য

আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ৮২ থেকে ৯০ শতাংশ অগ্রগতি লাভ করেছে। বৃহস্পতিবার নগর পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে মোট ১৫১টি মামলার মধ্যে ৬৯টি মামলা নগর ও জেলার ৯টি থানায় দায়ের হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আদালতে সরাসরি নালিশি (সিআর) হিসেবে দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ১৩ হাজার ৪৫০ জন নাম উল্লেখসহ এবং অন্তত ৩০ হাজার অজ্ঞাত আসামি রয়েছে।

মামলাগুলোতে আসামী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। থানায় দায়ের হওয়া ৬৯টি মামলায় মোট ২১ হাজার ৯০৬ জন আসামি রয়েছেন, যার মধ্যে ১৫টি হত্যা মামলা। একটি মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী আরও বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছেন এবং তাদের ওপর কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে না। এই কারণেই কিছু মামলার প্রতিবেদন জমা দিতে কিছুটা সময় লাগছে।

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের বিষয়ে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী কমিশনারের অনুরোধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং তিনিও এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। তিনি নগরীকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হতে দেবেন না এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানান।

অন্যদিকে, আন্দোলনের ঘটনার পর ২০ মাস অতিবাহিত হলেও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর অগ্রগতি ধীরগতিতে হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার তদন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে এবং সাক্ষীদের হাজির করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মামলার খোঁজখবর নেওয়া হলেও নতুন সরকার আসার পর সেই তৎপরতা কমে গেছে। তাদের আরও অভিযোগ, মামলার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনও প্রদান করা হয়নি।