ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সীমান্ত সম্মেলন শেষেও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মিলল না সুনির্দিষ্ট সমাধান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়েছে, তবে বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী সীমান্তে চলমান সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধানের কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। সম্মেলন শেষে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী মহলের মূল্যায়ন বলছে, সীমান্ত হত্যা, পুশইন, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, ভারতীয় ভূখণ্ডে বাংলাদেশবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার অন্যান্য স্পর্শকাতর ইস্যুতে কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গত ৮ জুন শুরু হওয়া চার দিনের এই সম্মেলন আজ বৃহস্পতিবার শেষ হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক হওয়ায় এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আটটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা উত্থাপন করে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর এবং যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদলেও দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

তবে, বৈঠকের আলোচনা যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে যে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উত্থাপিত মূল উদ্বেগগুলোর বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বরং কূটনৈতিক ভাষা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সাধারণ বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘সাত দফা সংকট’ সমাধানে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর বা সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না মেলায় ঢাকার কূটনীতিক মহলে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তে হত্যা ও পুশইনের মতো সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানা ইস্যুগুলোতে বিএসএফের এমন চাতুর্যপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবে এড়িয়ে যাওয়ার নীতি দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে এক হাজার হিমাগার তৈরির মহাপরিকল্পনা সরকারের

সীমান্ত সম্মেলন শেষেও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মিলল না সুনির্দিষ্ট সমাধান

আপডেট সময় : ১০:৩৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়েছে, তবে বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী সীমান্তে চলমান সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধানের কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। সম্মেলন শেষে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী মহলের মূল্যায়ন বলছে, সীমান্ত হত্যা, পুশইন, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, ভারতীয় ভূখণ্ডে বাংলাদেশবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার অন্যান্য স্পর্শকাতর ইস্যুতে কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গত ৮ জুন শুরু হওয়া চার দিনের এই সম্মেলন আজ বৃহস্পতিবার শেষ হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক হওয়ায় এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আটটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা উত্থাপন করে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর এবং যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদলেও দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

তবে, বৈঠকের আলোচনা যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে যে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উত্থাপিত মূল উদ্বেগগুলোর বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বরং কূটনৈতিক ভাষা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সাধারণ বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘সাত দফা সংকট’ সমাধানে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর বা সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না মেলায় ঢাকার কূটনীতিক মহলে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তে হত্যা ও পুশইনের মতো সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানা ইস্যুগুলোতে বিএসএফের এমন চাতুর্যপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবে এড়িয়ে যাওয়ার নীতি দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।