ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১৭৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন

আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার দুটি ডিটেনশন সেন্টারে মানবিক সংকটে থাকা ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর যৌথ প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।

বুধবার ভোর ৫টায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় এই বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে এবং ৬২ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন। এদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকির জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ মঙ্গলবার ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে আসা বাংলাদেশিদের বিদায় জানান। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

প্রত্যাবর্তনের সময় রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তারা লিবিয়ায় তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। অনেকে অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় আসার পর বিভিন্ন মানব পাচার চক্রের হাতে জিম্মি হওয়া, মুক্তিপণের জন্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া, খাদ্য ও পানির অভাব, চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়া এবং দেশে তাদের জমি-জমা বিক্রির মতো মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানান। কেউ কেউ প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করার কথাও উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত তাদের দেশে ফিরে নতুন করে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি সাম্প্রতিক একটি নৌ-দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্তত জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারা তাদের জন্য সৌভাগ্য। তিনি ভবিষ্যতে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে কেউ যেন না আসে, সে ব্যাপারে প্রত্যাবাসিতদের নিজ নিজ এলাকায় তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও মানবেতর জীবনযাপনের করুণ চিত্র তুলে ধরার অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন কেবল ব্যক্তি ও পরিবারের জন্যই নয়, বরং সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়েও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুঝুঁকি ও লিবিয়ার ‘গেম ঘরে’ বন্দি বাংলাদেশিরা

লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১৭৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন

আপডেট সময় : ০২:২১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার দুটি ডিটেনশন সেন্টারে মানবিক সংকটে থাকা ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর যৌথ প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।

বুধবার ভোর ৫টায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় এই বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে এবং ৬২ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন। এদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকির জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ মঙ্গলবার ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে আসা বাংলাদেশিদের বিদায় জানান। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

প্রত্যাবর্তনের সময় রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তারা লিবিয়ায় তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। অনেকে অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় আসার পর বিভিন্ন মানব পাচার চক্রের হাতে জিম্মি হওয়া, মুক্তিপণের জন্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া, খাদ্য ও পানির অভাব, চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়া এবং দেশে তাদের জমি-জমা বিক্রির মতো মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানান। কেউ কেউ প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করার কথাও উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত তাদের দেশে ফিরে নতুন করে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি সাম্প্রতিক একটি নৌ-দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্তত জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারা তাদের জন্য সৌভাগ্য। তিনি ভবিষ্যতে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে কেউ যেন না আসে, সে ব্যাপারে প্রত্যাবাসিতদের নিজ নিজ এলাকায় তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও মানবেতর জীবনযাপনের করুণ চিত্র তুলে ধরার অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন কেবল ব্যক্তি ও পরিবারের জন্যই নয়, বরং সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়েও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।