ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বান্দরবান সীমান্তে মাইন আতঙ্ক: প্রাণহানি বৃদ্ধিতে দিশেহারা সীমান্তবর্তী মানুষ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অপরাধী চক্রের তৎপরতা ও সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রেজু আমতলী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে আব্দুল খালেক নামে এক রোহিঙ্গা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বারবার এ ধরনের ঘটনায় সীমান্ত লাগোয়া জনপদ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির তীব্র সংঘর্ষ চলছে। সীমান্তের ওই এলাকাটি বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সেখানে আরও কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই সীমান্তে মাইন বসানো হচ্ছে, যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নিহত আব্দুল খালেক কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি সীমান্তে একটি বাগানে দিনমজুরের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, একসময় এই অঞ্চলের মানুষ পাহাড় থেকে কাঠ ও বাঁশ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু বর্তমানে কাঁটাতারের বেড়া এবং মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাইনের ভয়ে কেউ আর পাহাড়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না হলে এই মরণফাঁদ আরও বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাহুবলে মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে ভোগান্তি: সময়সীমার আগেই তালিকা চূড়ান্তের অভিযোগ

বান্দরবান সীমান্তে মাইন আতঙ্ক: প্রাণহানি বৃদ্ধিতে দিশেহারা সীমান্তবর্তী মানুষ

আপডেট সময় : ০১:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অপরাধী চক্রের তৎপরতা ও সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রেজু আমতলী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে আব্দুল খালেক নামে এক রোহিঙ্গা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বারবার এ ধরনের ঘটনায় সীমান্ত লাগোয়া জনপদ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির তীব্র সংঘর্ষ চলছে। সীমান্তের ওই এলাকাটি বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সেখানে আরও কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই সীমান্তে মাইন বসানো হচ্ছে, যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নিহত আব্দুল খালেক কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি সীমান্তে একটি বাগানে দিনমজুরের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, একসময় এই অঞ্চলের মানুষ পাহাড় থেকে কাঠ ও বাঁশ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু বর্তমানে কাঁটাতারের বেড়া এবং মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাইনের ভয়ে কেউ আর পাহাড়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না হলে এই মরণফাঁদ আরও বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।