ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নিউইয়র্ক সিনেটে প্রথম ফিলিস্তিনি হিসেবে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে আবের কাওয়াস

যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য পর্যায়ে খুব কম সংখ্যক ফিলিস্তিনি আমেরিকানই এখন পর্যন্ত নির্বাচিত হতে পেরেছেন। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম লেখাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবের কাওয়াস। আগামী ২৩ জুন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরো থেকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিষ্ট হিসেবে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ১২-এর প্রাইমারি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন তিনি।

মঙ্গলবার মিডল ইস্ট আই-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ফিলিপিনো-আমেরিকান আইনপ্রণেতা স্টিভেন রাগা। এই প্রাইমারি নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং জয়ী হলে আগামী জানুয়ারিতে অ্যালবানিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

কাওয়াস সম্প্রতি নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামসের সমর্থন পেয়েছেন। এর আগে রাগা ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে অ্যাডামসের প্রচারণাকে সমর্থন করেছিলেন।

কাওয়াস বলেন, ‘অ্যাডামস আন্দোলন অনেক তরুণ এবং প্রগতিশীল বামপন্থীদের আশার আলো দেখিয়েছে এবং তাদের হতাশা দূর করে কাজের সুযোগ করে দিয়েছে।’ তিনি আরও জানান, তারা সেই গতি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

২০২৫ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি জয়ের আগে মেয়র অ্যাডামসকে একজন বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে দেখা হতো। তিনি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বামপন্থী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তবে তার প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল ফিলিস্তিনের পক্ষে তার আপসহীন অবস্থান। গাজায় চলমান পরিস্থিতির কারণে তার বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগ আনা হলেও, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার এই অবস্থানই তাকে প্রাইমারিতে জয়ী হতে সাহায্য করেছিল।

কাওয়াস মূলত সেই অবস্থানেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসা একজন ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যিনি নিজের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের ওপর যে দমন-পীড়ন ও নজরদারি শুরু হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে তার নথিপত্রহীন বাবাকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) গ্রেপ্তার করে। প্রায় তিন বছর ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখার পর তার বাবাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বছরে ১০ লক্ষ মানুষকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যের কারণে হাজার হাজার পরিবার যেভাবে একক মা বা বাবার অধীনে বড় হচ্ছে, কাওয়াস ও তার ভাইবোনদেরও একইভাবে বড় হতে হয়েছে।

কাওয়াস বলেন, ‘আমি চাই না এমন ঘটনা আর কারো সঙ্গে ঘটুক।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ

নিউইয়র্ক সিনেটে প্রথম ফিলিস্তিনি হিসেবে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে আবের কাওয়াস

আপডেট সময় : ০২:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য পর্যায়ে খুব কম সংখ্যক ফিলিস্তিনি আমেরিকানই এখন পর্যন্ত নির্বাচিত হতে পেরেছেন। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম লেখাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবের কাওয়াস। আগামী ২৩ জুন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরো থেকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিষ্ট হিসেবে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ১২-এর প্রাইমারি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন তিনি।

মঙ্গলবার মিডল ইস্ট আই-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ফিলিপিনো-আমেরিকান আইনপ্রণেতা স্টিভেন রাগা। এই প্রাইমারি নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং জয়ী হলে আগামী জানুয়ারিতে অ্যালবানিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

কাওয়াস সম্প্রতি নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামসের সমর্থন পেয়েছেন। এর আগে রাগা ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে অ্যাডামসের প্রচারণাকে সমর্থন করেছিলেন।

কাওয়াস বলেন, ‘অ্যাডামস আন্দোলন অনেক তরুণ এবং প্রগতিশীল বামপন্থীদের আশার আলো দেখিয়েছে এবং তাদের হতাশা দূর করে কাজের সুযোগ করে দিয়েছে।’ তিনি আরও জানান, তারা সেই গতি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

২০২৫ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি জয়ের আগে মেয়র অ্যাডামসকে একজন বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে দেখা হতো। তিনি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বামপন্থী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তবে তার প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল ফিলিস্তিনের পক্ষে তার আপসহীন অবস্থান। গাজায় চলমান পরিস্থিতির কারণে তার বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগ আনা হলেও, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার এই অবস্থানই তাকে প্রাইমারিতে জয়ী হতে সাহায্য করেছিল।

কাওয়াস মূলত সেই অবস্থানেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসা একজন ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যিনি নিজের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের ওপর যে দমন-পীড়ন ও নজরদারি শুরু হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে তার নথিপত্রহীন বাবাকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) গ্রেপ্তার করে। প্রায় তিন বছর ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখার পর তার বাবাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বছরে ১০ লক্ষ মানুষকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যের কারণে হাজার হাজার পরিবার যেভাবে একক মা বা বাবার অধীনে বড় হচ্ছে, কাওয়াস ও তার ভাইবোনদেরও একইভাবে বড় হতে হয়েছে।

কাওয়াস বলেন, ‘আমি চাই না এমন ঘটনা আর কারো সঙ্গে ঘটুক।’