ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

অপপ্রচার ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতির স্বরূপ: ড. ইউনূসের প্রত্যাবর্তনে গুজবের অবসান

সম্প্রতি ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস সফর শেষে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার এই বিদেশ সফর চলাকালে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়েছিল যে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তবে তার বীরদর্পে দেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে সেই অপপ্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিদ্বেষ নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনসমর্থন হারানো গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই তথ্যযুদ্ধের আশ্রয় নেয়। সত্যের মুখোমুখি হতে না পেরে তারা বিকল্প বাস্তবতা তৈরির চেষ্টা করে, যেখানে গুজব ও অর্ধসত্যই তাদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে। জার্মান-আমেরিকান তাত্ত্বিক হান্না আরেন্টের মতে, সর্বগ্রাসী প্রচারণার মূল লক্ষ্য মানুষকে সত্যে বিশ্বাস করানো নয়, বরং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য ঘুচিয়ে দেওয়া। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে গণহত্যাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা গণঅভ্যুত্থানকে চক্রান্ত হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা ফ্যাসিবাদী রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ।

বিগত দেড় দশকের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অন্যায়ের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতেই অপপ্রচারের মাত্রা বেড়েছে। মূলত জবাবদিহিতা এড়ানোর কৌশল হিসেবেই এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আধুনিক যুগে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতর থেকেই গণতন্ত্রকে দুর্বল করার যে প্রক্রিয়া চলে, তা রুখতে নাগরিকদের সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রের মৃত্যু: অধ্যক্ষসহ ১৮ জনের নামে হত্যা মামলা

অপপ্রচার ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতির স্বরূপ: ড. ইউনূসের প্রত্যাবর্তনে গুজবের অবসান

আপডেট সময় : ১২:৪৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সম্প্রতি ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস সফর শেষে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার এই বিদেশ সফর চলাকালে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়েছিল যে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তবে তার বীরদর্পে দেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে সেই অপপ্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিদ্বেষ নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনসমর্থন হারানো গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই তথ্যযুদ্ধের আশ্রয় নেয়। সত্যের মুখোমুখি হতে না পেরে তারা বিকল্প বাস্তবতা তৈরির চেষ্টা করে, যেখানে গুজব ও অর্ধসত্যই তাদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে। জার্মান-আমেরিকান তাত্ত্বিক হান্না আরেন্টের মতে, সর্বগ্রাসী প্রচারণার মূল লক্ষ্য মানুষকে সত্যে বিশ্বাস করানো নয়, বরং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য ঘুচিয়ে দেওয়া। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে গণহত্যাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা গণঅভ্যুত্থানকে চক্রান্ত হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা ফ্যাসিবাদী রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ।

বিগত দেড় দশকের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অন্যায়ের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতেই অপপ্রচারের মাত্রা বেড়েছে। মূলত জবাবদিহিতা এড়ানোর কৌশল হিসেবেই এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আধুনিক যুগে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতর থেকেই গণতন্ত্রকে দুর্বল করার যে প্রক্রিয়া চলে, তা রুখতে নাগরিকদের সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।