বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ দাবি করেছেন যে, গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জনগণকে বাধ্য করেছেন।’ মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের (বিধি-৬২) ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পার্থ বলেন, ‘আমাদের জুলাইয়ের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার একটা পায়তারা দেখতে পাচ্ছি। ঠিক আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে পড়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি কোন কথা বলতাম, তাহলে যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমরা বলতাম তেলের দাম কত? যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না।’ তিনি এই আচরণের সঙ্গে মিল দেখতে পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।
জুলাই সনদের সঙ্গে কোনো সমস্যা না থাকলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেন পার্থ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় করতে চাচ্ছেন? আমাদের নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) আগে থেকেই দেওয়া।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা সে সময় বিপ্লবী সরকার করেননি কেন? সাধারণ সরকারে গেলেন কেন? অন্তর্বর্তীকালীন বিপ্লবী সরকার করতেন। ছিঁড়ে ফেলে দিতে সংবিধানকে। নতুন করে সংবিধান বানাতেন। পুরানো সংবিধানে থেকে আপনারা সংবিধানকেই বাতিল করে দিতে চাচ্ছেন। এটা আসলে হয় না।’
বাহাত্তরের সংবিধান তৈরির সময়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমাতে গিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিপরিষদের ক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছি। এ কারণে আমরা অনুধাবন করেছি পরিবর্তনের। আমরা মনেকরি পরিবর্তন প্রয়োজন। সংবিধান ও জুলাই সনদকে সমন্বয় করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’ সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোথা থেকে আসছে এমন প্রশ্ন তুলে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘সচরাচর আমরা যেভাবে সংবিধান পরিবর্তন করি, আমরা সেখানে থাকতে চেয়েছি। আমরা সেভাবে করব। আপনারা বসেন, আমাদের আপত্তি আছে। সেগুলো নিয়ে কথা বলি।’ তিনি আরও দাবি করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়লেও, সংবিধান পরিবর্তনের জন্য ৫১ শতাংশ তাদের (বিএনপি জোট) দিয়েছেন। সবশেষে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে জনগণকে বাধ্য করা হয়েছে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি। এখানে আমার ভাইয়েরা অনেক বেশি কষ্ট করেছে। আমরা জেলে গিয়েছি, আন্দোলনে ছিলাম, ২০ দলে ছিলাম, চার দলে ছিলাম, অনেক আগে থেকে। আমরা চাই না, কিন্তু একটা প্রক্রিয়…’ (বাক্যটি অসম্পূর্ণ)।
রিপোর্টারের নাম 
























