ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যা মামলার যথেচ্ছ ব্যবহার: বিচারব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ

বাংলাদেশে গত দেড় বছরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ও হত্যা মামলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছে। এসব মামলার কোনো কোনোটিতে শত শত আসামি দেখা গেছে, এমনকি হত্যারচেষ্টা মামলার আসামিও কম নয়। মামলাগুলোর ফিরিস্তি পড়লে শুধু হাস্যকরই নয়, বরং দেশের বিচার-আইন সব কিছু নিয়েই যে কারও কাছেই গভীর সংশয় তৈরি হতে পারে।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে যে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে, সেসময় তিনি কানাডায় ছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে, কানাডা থেকে গুলি করে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন? সম্প্রতি একাত্তর টিভির সাংবাদিক শারমীন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, তাকে যে সময়ে সংঘটিত হত্যার অভিযোগে মামলার আসামি করা হয়েছে, ঠিক সেই সময় তিনি সংসদ ভবন থেকে লাইভে ছিলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরে ৩৫৪ জন সাংবাদিককে হত্যা, হত্যারচেষ্টা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে মঞ্জুরুল আলম পান্না ও আনিস আলমগীর মুক্তি পেয়েছেন। কেউ কেউ একসঙ্গে দু’টি মামলারও আসামি, অর্থাৎ একই সময়ে দু’টি ভিন্ন স্থানে তিনি হত্যার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, যা বাস্তবে অসম্ভব। বিষয়গুলো অনেকটা এমন হয়ে গেছে যে লোকজন একে অন্যকে ঠাট্টা করে বলছে, ‘তোমার নামে এখনও হত্যা মামলা হয়নি?’ কিংবা ‘হত্যা মামলা না হলে আর কী হলো?’ মানে হত্যা মামলাই এখন বাংলাদেশের জন্য দুধভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বহু সাংবাদিক, চিকিৎসক, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা রয়েছে এবং অনেকেই গ্রেফতারও হয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ-প্রমাণ আছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, বিচার হবে। কিন্তু হরে-দরে হত্যা মামলা দায়ের হওয়া বিচার ব্যবস্থাকেই দুর্বল জায়গায় নিয়ে গেছে।

কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে ‘ফ্যাসিস্ট’ ট্যাগ দিয়ে মব করে যাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে, তাকেও এই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। এছাড়া সব আটকই হচ্ছে এখন অনেকটা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭২-এর সংবিধান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী, শিক্ষক হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খানসহ অনেকে। সব মামলাই হয়েছে এই সন্ত্রাসবিরোধী আইনেই। এমনকি আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই আইনে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের লাগাতার ধর্মঘট: প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যা মামলার যথেচ্ছ ব্যবহার: বিচারব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০২:৩৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বাংলাদেশে গত দেড় বছরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ও হত্যা মামলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছে। এসব মামলার কোনো কোনোটিতে শত শত আসামি দেখা গেছে, এমনকি হত্যারচেষ্টা মামলার আসামিও কম নয়। মামলাগুলোর ফিরিস্তি পড়লে শুধু হাস্যকরই নয়, বরং দেশের বিচার-আইন সব কিছু নিয়েই যে কারও কাছেই গভীর সংশয় তৈরি হতে পারে।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে যে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে, সেসময় তিনি কানাডায় ছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে, কানাডা থেকে গুলি করে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন? সম্প্রতি একাত্তর টিভির সাংবাদিক শারমীন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, তাকে যে সময়ে সংঘটিত হত্যার অভিযোগে মামলার আসামি করা হয়েছে, ঠিক সেই সময় তিনি সংসদ ভবন থেকে লাইভে ছিলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরে ৩৫৪ জন সাংবাদিককে হত্যা, হত্যারচেষ্টা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে মঞ্জুরুল আলম পান্না ও আনিস আলমগীর মুক্তি পেয়েছেন। কেউ কেউ একসঙ্গে দু’টি মামলারও আসামি, অর্থাৎ একই সময়ে দু’টি ভিন্ন স্থানে তিনি হত্যার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, যা বাস্তবে অসম্ভব। বিষয়গুলো অনেকটা এমন হয়ে গেছে যে লোকজন একে অন্যকে ঠাট্টা করে বলছে, ‘তোমার নামে এখনও হত্যা মামলা হয়নি?’ কিংবা ‘হত্যা মামলা না হলে আর কী হলো?’ মানে হত্যা মামলাই এখন বাংলাদেশের জন্য দুধভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বহু সাংবাদিক, চিকিৎসক, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা রয়েছে এবং অনেকেই গ্রেফতারও হয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ-প্রমাণ আছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, বিচার হবে। কিন্তু হরে-দরে হত্যা মামলা দায়ের হওয়া বিচার ব্যবস্থাকেই দুর্বল জায়গায় নিয়ে গেছে।

কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে ‘ফ্যাসিস্ট’ ট্যাগ দিয়ে মব করে যাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে, তাকেও এই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। এছাড়া সব আটকই হচ্ছে এখন অনেকটা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭২-এর সংবিধান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী, শিক্ষক হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খানসহ অনেকে। সব মামলাই হয়েছে এই সন্ত্রাসবিরোধী আইনেই। এমনকি আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই আইনে।