রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বহাল রাখার পক্ষে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রায়টি অবশেষে প্রকাশ করেছে আপিল বিভাগ। ২০২৫ সালের ১ জুন এই রায় দেওয়া হয়েছিল। সোমবার (১১ মে) তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নভেম্বরে জামায়াতকে নিবন্ধন সনদ প্রদান করে নির্বাচন কমিশন। তবে, এই নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে একদল ব্যক্তি রিট আবেদন করেন। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত আপিল করার সুযোগ পায় এবং দলটি ওই বছরই আপিল দায়ের করে।
হাইকোর্টের রায়ের পর জামায়াত তা স্থগিত করার আবেদন করেছিল, যা ২০১৩ সালের ৫ আগস্ট আপিল বিভাগের তৎকালীন চেম্বার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
জামায়াতের আপিল ও লিভ টু আপিল ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। তবে, আপিলকারীর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় ওই সময় আপিলটি খারিজ (ডিসমিসড ফর ডিফল্ট) হয়। পরবর্তীতে, দেরি মার্জনা করে আপিল ও লিভ টু আপিল পুনরুজ্জীবিত করার জন্য দলটির পক্ষ থেকে পৃথক আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর আপিল বিভাগ আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এরপর জামায়াতের আপিল ও লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর শুনানি শুরু হয়। প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে একটি আবেদন ১২ মে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে এবং আদালত আপিল ও লিভ টু আপিলের সঙ্গে শুনানির জন্য আবেদনটি ট্যাগ করে দেন। শুনানি শেষে ১ জুন আপিল বিভাগ তাদের রায় ঘোষণা করেন, যা এখন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















