অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করার অনৈতিক চর্চা বন্ধে এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এই রায় প্রদান করেন, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি (১১ মে) প্রকাশিত হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা এবং সামাজিক ভারসাম্যহীনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। আদালত এটিকে নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র গাইডলাইন তৈরি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং কার্যকর বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে, আদালত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি এবং নিয়মিত হালনাগাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
রায়ে বলা হয়েছে, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এ ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বলে আদালত উল্লেখ করেন। এই নির্দেশনাকে ‘কন্টিনিউ মেন্ডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এর বাস্তবায়ন তদারকি করা যায়। ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এ বিষয়ে রিট আবেদন করেছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 




















