ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ঢাবিতে বাংলা নববর্ষ: ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামেই উদযাপিত হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামটিই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর গৃহীত এই সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। ফলে এবারও পহেলা বৈশাখ ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামেই উদযাপিত হবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) সকালে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় এই তথ্য জানানো হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। এবারের নববর্ষ উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ শুরু হবে। শোভাযাত্রাটি রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে।

নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরা ও ব্যাগ বহন করা যাবে না, তবে চারুকলা অনুষদে তৈরি মুখোশ হাতে প্রদর্শন করা যাবে। ভুভুজিলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, নববর্ষের সকল অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে এবং ওই দিন বিকাল ৫টার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর স্টিকারযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। পহেলা বৈশাখে ক্যাম্পাসে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপনের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এলাকায় হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোবাইল পাবলিক টয়লেট স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নববর্ষ উদযাপন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিকে আহ্বায়ক এবং চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখকে সদস্য-সচিব করে একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের লাগাতার ধর্মঘট: প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

ঢাবিতে বাংলা নববর্ষ: ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামেই উদযাপিত হবে

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামটিই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর গৃহীত এই সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। ফলে এবারও পহেলা বৈশাখ ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামেই উদযাপিত হবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) সকালে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় এই তথ্য জানানো হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। এবারের নববর্ষ উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ শুরু হবে। শোভাযাত্রাটি রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে।

নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরা ও ব্যাগ বহন করা যাবে না, তবে চারুকলা অনুষদে তৈরি মুখোশ হাতে প্রদর্শন করা যাবে। ভুভুজিলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া, নববর্ষের সকল অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে এবং ওই দিন বিকাল ৫টার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর স্টিকারযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। পহেলা বৈশাখে ক্যাম্পাসে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপনের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এলাকায় হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোবাইল পাবলিক টয়লেট স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নববর্ষ উদযাপন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিকে আহ্বায়ক এবং চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখকে সদস্য-সচিব করে একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।