ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ফুটবলের দীর্ঘ পথপরিক্রমা: প্রাচীন খেলা থেকে আধুনিক রূপ

চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনা সৃষ্টি করে। পছন্দের দলের প্রতি সমর্থন, পতাকা তৈরি, খেলা দেখা – এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। তবে, ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই হয়তো এই জনপ্রিয় খেলার উৎপত্তি বা প্রাচীন যুগে কারা এটি খেলত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০ অব্দের দিকে গ্রিস এবং ইতালিতে প্রথম ফুটবল খেলার মতো কোনো খেলার প্রচলন শুরু হয়েছিল। সে সময় তারা পা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের বল খেলা খেলত। তবে প্রাচীন গ্রন্থাবলীতে বল খেলার অস্তিত্ব বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়। যেমন, ১৫৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ অনুসন্ধানকারী জন ডেভিস গ্রিনল্যান্ডের ইনুউইটদের সঙ্গে ফুটবল খেলেছিলেন। আবার ১৬১০ সালে আমেরিকানদের বল খেলার বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন উইলিয়াম স্ট্রেচি নামের একজন ঔপনিবেশিক।

অস্ট্রেলিয়ায় লাথি মেরে বল খেলার সূচনা করে সেখানকার আদিবাসী উপজাতিরা, যা বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে বর্ণিত আছে। নিউজিল্যান্ডে মাওরি জাতির মানুষ প্রথম ‘কি-ও-রাহি’ নামক একটি বল খেলা শুরু করে। এই খেলায় একটি বৃত্তাকার মাঠকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হতো এবং প্রতিটি ভাগে একটি করে দল থাকত, যেখানে সাতজন করে খেলোয়াড় থাকত। মাঠের মাঝখানে একটি বৃত্তাকার সীমানা থাকত এবং এক দল অন্য দলের সীমানা পার করে বল দিয়ে মাঝের বৃত্তটি স্পর্শ করতে পারলে পয়েন্ট নির্ধারিত হতো।

ইউরোপে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে, ৯ম শতাব্দীতে বল খেলার প্রচলন শুরু হয়। ইংল্যান্ডে প্রথম দিকে যে বল খেলা হতো তার নাম ছিল ‘মব ফুটবল’। এটি মূলত বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিনে খেলা হতো। এই খেলায় দুই দলে অগণিত খেলোয়াড় থাকত এবং তারা গায়ের জোরে ধাক্কাধাক্কি করে বলকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যেতে পারলে পয়েন্ট অর্জন করত।

আয়ারল্যান্ডে প্রথম ফুটবল খেলার কথা জানা যায় ১৩০৮ সালে। এরপর ষোড়শ শতাব্দীতে ইতালির ফ্লরেন্স শহরে ‘ক্যালসিও স্ট্যারিকো’ নামে এক ধরনের বল খেলা হতো, যা পরবর্তী সময়ে আধুনিক ফুটবলের প্রাথমিক রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

‘ক্যালসিও স্ট্যারিকো’ খেলায় সর্বোচ্চ ২৭ জন খেলোয়াড় অংশ নিতে পারত এবং প্রত্যেক দলে খেলোয়াড়ের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হতো, যেমন কোনো দলে ১৫ জন আবার কোনো দলে ২০ জন। এই খেলায় পাঁচজন গোলরক্ষক থাকত। তবে, এই নিয়মের কারণে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় ১৮৭০ সালে আইন করা হয় যে, প্রতিটি দলে ১১ জন করে খেলোয়াড় থাকবে এবং এর মধ্যে একজন গোলরক্ষক থাকবে, যা আধুনিক ফুটবলের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

ফুটবলের দীর্ঘ পথপরিক্রমা: প্রাচীন খেলা থেকে আধুনিক রূপ

আপডেট সময় : ০৩:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনা সৃষ্টি করে। পছন্দের দলের প্রতি সমর্থন, পতাকা তৈরি, খেলা দেখা – এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। তবে, ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই হয়তো এই জনপ্রিয় খেলার উৎপত্তি বা প্রাচীন যুগে কারা এটি খেলত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০ অব্দের দিকে গ্রিস এবং ইতালিতে প্রথম ফুটবল খেলার মতো কোনো খেলার প্রচলন শুরু হয়েছিল। সে সময় তারা পা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের বল খেলা খেলত। তবে প্রাচীন গ্রন্থাবলীতে বল খেলার অস্তিত্ব বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়। যেমন, ১৫৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ অনুসন্ধানকারী জন ডেভিস গ্রিনল্যান্ডের ইনুউইটদের সঙ্গে ফুটবল খেলেছিলেন। আবার ১৬১০ সালে আমেরিকানদের বল খেলার বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন উইলিয়াম স্ট্রেচি নামের একজন ঔপনিবেশিক।

অস্ট্রেলিয়ায় লাথি মেরে বল খেলার সূচনা করে সেখানকার আদিবাসী উপজাতিরা, যা বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে বর্ণিত আছে। নিউজিল্যান্ডে মাওরি জাতির মানুষ প্রথম ‘কি-ও-রাহি’ নামক একটি বল খেলা শুরু করে। এই খেলায় একটি বৃত্তাকার মাঠকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হতো এবং প্রতিটি ভাগে একটি করে দল থাকত, যেখানে সাতজন করে খেলোয়াড় থাকত। মাঠের মাঝখানে একটি বৃত্তাকার সীমানা থাকত এবং এক দল অন্য দলের সীমানা পার করে বল দিয়ে মাঝের বৃত্তটি স্পর্শ করতে পারলে পয়েন্ট নির্ধারিত হতো।

ইউরোপে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে, ৯ম শতাব্দীতে বল খেলার প্রচলন শুরু হয়। ইংল্যান্ডে প্রথম দিকে যে বল খেলা হতো তার নাম ছিল ‘মব ফুটবল’। এটি মূলত বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিনে খেলা হতো। এই খেলায় দুই দলে অগণিত খেলোয়াড় থাকত এবং তারা গায়ের জোরে ধাক্কাধাক্কি করে বলকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যেতে পারলে পয়েন্ট অর্জন করত।

আয়ারল্যান্ডে প্রথম ফুটবল খেলার কথা জানা যায় ১৩০৮ সালে। এরপর ষোড়শ শতাব্দীতে ইতালির ফ্লরেন্স শহরে ‘ক্যালসিও স্ট্যারিকো’ নামে এক ধরনের বল খেলা হতো, যা পরবর্তী সময়ে আধুনিক ফুটবলের প্রাথমিক রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

‘ক্যালসিও স্ট্যারিকো’ খেলায় সর্বোচ্চ ২৭ জন খেলোয়াড় অংশ নিতে পারত এবং প্রত্যেক দলে খেলোয়াড়ের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হতো, যেমন কোনো দলে ১৫ জন আবার কোনো দলে ২০ জন। এই খেলায় পাঁচজন গোলরক্ষক থাকত। তবে, এই নিয়মের কারণে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় ১৮৭০ সালে আইন করা হয় যে, প্রতিটি দলে ১১ জন করে খেলোয়াড় থাকবে এবং এর মধ্যে একজন গোলরক্ষক থাকবে, যা আধুনিক ফুটবলের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।