অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণ এবং তা প্রকাশ করাকে নারীর প্রতি বৈষম্য ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি বলে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের দেওয়া এ সংক্রান্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, এই চর্চা কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করার ঝুঁকি তৈরি করে।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে যে বৈষম্য তৈরি হয়, তা সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। শুধুমাত্র গাইডলাইন তৈরি করলেই এই অনৈতিক কাজ বন্ধ হবে না; এর জন্য কার্যকর ডিজিটাল নজরদারি ও জবাবদিহি প্রয়োজন। রায়ে দেশের সকল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই ডাটাবেজ চালু করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই যুগান্তকারী নির্দেশনা প্রদান করেন। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বিষয়টিও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন তদারকি করার জন্য আদালত বিষয়টিকে ‘কন্টিনিউ মেন্ডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 























