বিজ্ঞানীরা বলছেন, পিঁপড়ারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এক বিশেষ ধরনের ভাষা ব্যবহার করে, যা মূলত রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাদের এই বুদ্ধিমত্তা ও যোগাযোগ পদ্ধতি নিয়ে কোরআন এবং আধুনিক বিজ্ঞান উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেছে।
পবিত্র কোরআনে হজরত সুলায়মান (আ.)-এর সময়ের একদল পিঁপড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা নামালের ১৭ থেকে ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যখন সুলায়মান (আ.) তাঁর বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে পিঁপড়ার উপত্যকায় পৌঁছালেন, তখন একটি পিঁপড়া তার সঙ্গীদের সতর্ক করে বলল, ‘হে পিঁপড়ার দল, তোমরা নিজেদের বাসায় ঢুকে পড়ো। না হলে সুলায়মান ও তাঁর সেনাবাহিনী অজান্তেই তোমাদের পিষে ফেলবে।’ পিঁপড়ার এই কথা শুনে সুলায়মান (আ.) মুচকি হেসেছিলেন এবং আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছিলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, পিঁপড়াদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা, বিবেক খাটানোর ক্ষমতা এবং বিপদের পূর্বাভাস টের পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি প্রজাতির প্রাণীর নিজস্ব একটি ঘ্রাণ থাকে, এমনকি একই প্রজাতির প্রতিটি প্রাণীরও আলাদা ঘ্রাণ থাকে যা তাদের ব্যক্তি, পরিবার ও বংশের পরিচয় বহন করে। পিঁপড়াদেরও রয়েছে এমন এক বিশেষ ঘ্রাণ, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ফেরোমন’ বলেন। এই ফেরোমন তাদের মলদ্বারের কাছের একটি গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয় এবং এটিই তাদের গোপন ভাষা। এই ঘ্রাণ ব্যবহার করে তারা শত্রু-মিত্র শনাক্ত করে এবং কর্মী পিঁপড়ারা খাবার খুঁজে পেলে জায়গাটি চিহ্নিত করে ফেরোমন নিঃসরণ করে বাসায় ফিরে আসে, যাতে সহকর্মীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পিঁপড়ার মস্তিষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের মতোই দুটি প্রধান লোব, উন্নত স্নায়ুকেন্দ্র এবং সংবেদনশীল কোষ দিয়ে গঠিত। এই উন্নত মস্তিষ্কের গঠন তাদের জটিল সামাজিক আচরণ এবং যোগাযোগের সক্ষমতার পেছনে কাজ করে। কোরআনে উল্লেখিত পিঁপড়ার ঘটনা এবং আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণা—উভয়ই পিঁপড়ার বিস্ময়কর বুদ্ধিমত্তা ও যোগাযোগ পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করে।
রিপোর্টারের নাম 
























