ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কাল থেকে কমছে: মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় উখিয়া-টেকনাফ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে থাকা ১৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার জন্য আগামীকাল বুধবার থেকে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো। বিশ্বব্যাপী তহবিল সংকটের কারণে মাথাপিছু মাসিক ১২ ডলারের সমপরিমাণ খাদ্য সহায়তার পরিবর্তে এখন থেকে পরিবারের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সাত, ১০ ও ১২ ডলারের তিনটি পৃথক ক্যাটাগরিতে এই সহায়তা প্রদান করা হবে। হঠাৎ করে সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ার এই খবরে শরণার্থী শিবিরগুলোতে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় জাতিসংঘ সংস্থাগুলো এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। নতুন শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, যেসব পরিবারে কর্মক্ষম সদস্য বেশি এবং নির্ভরশীল সদস্য কম, তারা ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে মাথাপিছু মাত্র সাত ডলার করে পাবে; এমন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ। মাঝামাঝি অবস্থায় থাকা প্রায় ৫০ শতাংশ পরিবার ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ১০ ডলার এবং নারী ও শিশুসহ নির্ভরশীল সদস্য বেশি এমন ৩৩ শতাংশ পরিবার ‘সি’ ক্যাটাগরিতে আগের মতো ১২ ডলার সহায়তা পাবে। রোহিঙ্গা নেতারা আশঙ্কা করছেন, আগে ১২ ডলার পেয়েও যেখানে সংসার চালানো কঠিন ছিল, সেখানে সাত ডলারে নামিয়ে আনলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতীতে খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসে স্থানীয় শ্রমবাজার দখল এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিল। নতুন করে সহায়তা কমলে স্থানীয় সামাজিক নিরাপত্তা আরও বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি; উল্টো গত দেড় বছরে আরও প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে উখিয়া, টেকনাফ ও ভাসানচর মিলিয়ে মোট ৩৪টি ক্যাম্পে ২ লাখ ৪৫ হাজার পরিবারের বসবাস, যাদের জীবন পুরোপুরি আন্তর্জাতিক ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কাল থেকে কমছে: মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় উখিয়া-টেকনাফ

আপডেট সময় : ০১:১৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে থাকা ১৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার জন্য আগামীকাল বুধবার থেকে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো। বিশ্বব্যাপী তহবিল সংকটের কারণে মাথাপিছু মাসিক ১২ ডলারের সমপরিমাণ খাদ্য সহায়তার পরিবর্তে এখন থেকে পরিবারের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সাত, ১০ ও ১২ ডলারের তিনটি পৃথক ক্যাটাগরিতে এই সহায়তা প্রদান করা হবে। হঠাৎ করে সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ার এই খবরে শরণার্থী শিবিরগুলোতে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় জাতিসংঘ সংস্থাগুলো এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। নতুন শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, যেসব পরিবারে কর্মক্ষম সদস্য বেশি এবং নির্ভরশীল সদস্য কম, তারা ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে মাথাপিছু মাত্র সাত ডলার করে পাবে; এমন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ। মাঝামাঝি অবস্থায় থাকা প্রায় ৫০ শতাংশ পরিবার ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ১০ ডলার এবং নারী ও শিশুসহ নির্ভরশীল সদস্য বেশি এমন ৩৩ শতাংশ পরিবার ‘সি’ ক্যাটাগরিতে আগের মতো ১২ ডলার সহায়তা পাবে। রোহিঙ্গা নেতারা আশঙ্কা করছেন, আগে ১২ ডলার পেয়েও যেখানে সংসার চালানো কঠিন ছিল, সেখানে সাত ডলারে নামিয়ে আনলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতীতে খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসে স্থানীয় শ্রমবাজার দখল এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিল। নতুন করে সহায়তা কমলে স্থানীয় সামাজিক নিরাপত্তা আরও বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি; উল্টো গত দেড় বছরে আরও প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে উখিয়া, টেকনাফ ও ভাসানচর মিলিয়ে মোট ৩৪টি ক্যাম্পে ২ লাখ ৪৫ হাজার পরিবারের বসবাস, যাদের জীবন পুরোপুরি আন্তর্জাতিক ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।