দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির চিত্র এবার জাতীয় সংসদে খোদ সংসদ-সদস্যদের মুখেই উঠে এসেছে। সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ-সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি নিজেই কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে নিজের গাড়ির জন্য তেল পাননি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার থেকে বলা হচ্ছে দেশে কোনো সংকট নেই, কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন সংসদ-সদস্য যদি তেল না পান, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কতটা শোচনীয় তা সহজেই অনুমেয়। তার এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম জানান, তার এলাকায় পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে বোতলে করে ঠিকই চড়া দামে তেল বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এদিকে সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদকে যথাযথভাবে সম্বোধন না করায় সমালোচনার মুখে পড়েন কুমিল্লা-৪ আসনের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ-সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘সালাহ উদ্দিন সাহেব’ বলে সম্বোধন করলে অধিবেশনে আপত্তি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমি সংসদে এসেছি সাড়ে ২৭ বছর বয়সে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৯১ সালে যখন সংসদে এসেছিলেন, তখনো আমার জন্ম হয়নি; আমার জন্ম ১৯৯৮ সালে।” তিনি প্রচলিত ভুল সংশোধনে নিজের প্রস্তুতির কথা জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসিমুখে বিষয়টিকে সংসদীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তরুণ প্রজন্মের সংসদ-সদস্যদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, সামরিক শাসন পরবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া এই প্রজন্ম অনেক বেশি সৌভাগ্যবান। তবে তেলের এই কৃত্রিম সংকট নিরসনে দ্রুত মন্ত্রণালয়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন উপস্থিত সংসদ-সদস্যরা।
রিপোর্টারের নাম 
























