বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অর্জিত সাফল্য এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) ব্যাপক অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনো প্রায় ৪ লাখ শিশু সবকয়টি টিকা ঠিকমতো পায়নি এবং ৭০ হাজার শিশু একটি ডোজ টিকাও পায়নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহর এলাকায় টিকা না পাওয়ার হার অনেক বেশি। গ্রামে যেখানে ৮৫ শতাংশ শিশু সব ডোজ টিকা পেয়েছে, সেখানে শহরে এই হার মাত্র ৭৯ শতাংশ। বিশেষ করে শহরের বস্তি এলাকা এবং দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের কাছে পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি স্ট্যানলি গোয়াভুয়া জানান, ১৯৭৯ সালে ইপিআই শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় উন্নতি করেছে এবং পূর্ণ ডোজ টিকা গ্রহণের হার ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮১.৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই কর্মসূচির ফলে প্রতি বছর প্রায় ৯৪ হাজার মানুষের জীবন রক্ষা পাচ্ছে এবং ৫০ লাখ শিশুর অসুস্থতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জনবলের ঘাটতি, কোল্ড চেইন বা সংরক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক সংস্থা ‘গ্যাভি’ (Gavi)-এর সহায়তা কমে আসার ফলে সরকারকে এখন নিজস্ব অর্থায়নেই পুরো টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। এই পরিবর্তনগুলো মোকাবিলা করতে না পারলে প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























