ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

যুবশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিএনসিসিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ

দেশের যুবসমাজকে দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) কে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলনের সাথে বিএনসিসি কর্মকর্তাদের একটি ফলপ্রসূ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় ‘ইয়থ ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্ট: ন্যাশনাল ট্রান্সফরমেশন থ্রু বিএনসিসি’ শীর্ষক একটি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বিএনসিসির কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ কাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং জাতীয় উন্নয়নে যুবকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়। একইসাথে, সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রমের বিশ্লেষণ, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জগুলোও তুলে ধরা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ, দেশপ্রেম এবং নৈতিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনসিসি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং এটি দেশের একটি কার্যকর ‘ডিফেন্স লাইন’ হিসেবেও কাজ করতে সক্ষম।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকাসক্তি, পড়াশোনায় অনীহা এবং ঝরে পড়ার মতো সমস্যাগুলো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় বিএনসিসির মতো সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও বিস্তৃত করতে হবে। তিনি বিএনসিসির কার্যক্রমকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় বিএনসিসির কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি উপজেলায় এর কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, সফল বাস্তবায়নের পর এই মডেল সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বিএনসিসি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের উপর কাজ করছে, যা প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিশন। এই ভিশন বাস্তবায়নে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বিএনসিসির প্রতিনিধিরা সংগঠনের অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ব্যয়, জনবল বৃদ্ধি এবং উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তারা জানান, স্বল্প খরচে বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ব্যবহার করে দেশব্যাপী কার্যক্রম বিস্তারের সুযোগ রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা: ৬ মাসের মধ্যে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির নির্দেশ

যুবশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিএনসিসিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

দেশের যুবসমাজকে দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) কে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলনের সাথে বিএনসিসি কর্মকর্তাদের একটি ফলপ্রসূ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় ‘ইয়থ ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্ট: ন্যাশনাল ট্রান্সফরমেশন থ্রু বিএনসিসি’ শীর্ষক একটি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বিএনসিসির কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ কাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং জাতীয় উন্নয়নে যুবকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়। একইসাথে, সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রমের বিশ্লেষণ, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জগুলোও তুলে ধরা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ, দেশপ্রেম এবং নৈতিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনসিসি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং এটি দেশের একটি কার্যকর ‘ডিফেন্স লাইন’ হিসেবেও কাজ করতে সক্ষম।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকাসক্তি, পড়াশোনায় অনীহা এবং ঝরে পড়ার মতো সমস্যাগুলো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় বিএনসিসির মতো সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও বিস্তৃত করতে হবে। তিনি বিএনসিসির কার্যক্রমকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় বিএনসিসির কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি উপজেলায় এর কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, সফল বাস্তবায়নের পর এই মডেল সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বিএনসিসি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের উপর কাজ করছে, যা প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিশন। এই ভিশন বাস্তবায়নে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বিএনসিসির প্রতিনিধিরা সংগঠনের অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ব্যয়, জনবল বৃদ্ধি এবং উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তারা জানান, স্বল্প খরচে বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ব্যবহার করে দেশব্যাপী কার্যক্রম বিস্তারের সুযোগ রয়েছে।