বাংলাদেশে হামের (মিজেলস) সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আশা করা হচ্ছে আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই টিকা সরবরাহ শুরু করা যাবে।
সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক বৈঠকে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। একই সাথে, টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতেও সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চালু করা হয়েছে। এছাড়া, রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা এবং ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতে নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চালু থাকলেও, ২০১৮ সালের পর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়নি। এর ফলে, যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরবর্তীকালে জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।
জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। সবাইকে শান্ত থাকতে হবে এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যত দ্রুত সম্ভব টিকা এসে পৌঁছাবে এবং প্রাপ্তিমাত্রই টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং অতীতে এমন দ্রুততার সাথে ভেন্টিলেটর, আইসিইউ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 
























