অনলাইন পনজি স্কিম এমটিএফই-এর মাধ্যমে প্রতারণা করে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি টাকার বেশি, দেশে ফেরত আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার প্রতারণা দমনে এটি একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, এমটিএফই প্ল্যাটফর্মটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে অসংখ্য বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এটি মূলত একটি প্রতারণামূলক পনজি স্কিম ছিল।
প্রাথমিকভাবে কিছু বিনিয়োগকারীকে অর্থ ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জনের পর, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্ল্যাটফর্মটি হঠাৎ কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়, যার ফলে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ হারান। তদন্তে জানা যায়, বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছিল। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জে শনাক্ত করে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি-তে “CID, Bangladesh Police” নামে একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়েছে, যেখানে উদ্ধারকৃত অর্থ জমা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সহায়তায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে দেশে আনা হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মোট ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি কূটনৈতিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এমটিএফই চক্রের মাধ্যমে পাচার হওয়া বাকি অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারের কাজও চলমান রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























