বাংলাদেশের নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। এটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডেটাবেজ-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যা দেশের কল্যাণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল দর্শন হলো ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। এর মাধ্যমে অতীতে বিদ্যমান ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভুলভ্রান্তি, অযোগ্য ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে প্রতিটি নির্বাচিত পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা নগদ অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহায়তা পাবে।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (PMT) পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় ০.৫০ একরের কম জমি এবং নির্দিষ্ট আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে অতি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই তালিকায় স্থান পাবে। নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডগুলো মূলত পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল ও চিনির মতো পণ্যে ভর্তুকির পাশাপাশি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) মাধ্যমে সরাসরি অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই একক কার্ডের মাধ্যমেই স্বাস্থ্য বীমা, শিক্ষা ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার মতো সব সুবিধা একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এই মহতী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান। বিশেষ করে ডিজিটাল বৈষম্যের কারণে চরাঞ্চল বা পাহাড়ি এলাকার প্রযুক্তি-অজ্ঞ মানুষের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত ডেটা হালনাগাদ করা একটি বড় পরীক্ষা। সঠিক তথ্য ব্যবস্থাপনা না হলে প্রকৃত দরিদ্ররা বাদ পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তবে সঠিকভাবে পরিচালিত হলে ফ্যামিলি কার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক জনমিতিক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা গেলে এই প্রকল্প বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে, যা উন্নয়নকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক করে তুলবে।
রিপোর্টারের নাম 

























