মালয়েশিয়া সরকার আগামী জুন মাস থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীদের ভিসা পেতে হলে তাদের আগের চেয়ে অনেক বেশি বেতন দেখাতে হবে, যা কিছু ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি, নিয়োগকর্তারা কত দিন পর্যন্ত একই ভিসাধারীকে স্পনসর করতে পারবেন, তার ওপরও একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, বিশেষ করে যারা বাড়ি বা গাড়ি কেনার মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে মালয়েশিয়ায় এসেছেন। ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং বহু দশক ধরে এটি বিদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ২১ লাখ নিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিক রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ কায়িক শ্রমের কাজে নিয়োজিত। তাদের মাসিক গড় বেতন প্রায় ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত বা ৪৩০ ডলার।
অন্যদিকে, একটি ছোট অংশ অর্থায়ন, সেমিকন্ডাক্টর এবং তেল ও গ্যাস খাতের মতো উচ্চ বেতনের বিশেষায়িত খাতে কাজ করেন। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন জানিয়েছিলেন, দেশটিতে উচ্চ বেতনের অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার, যারা দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি রিঙ্গিত (১ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার) অবদান রাখেন এবং কর বাবদ সরকারকে প্রায় ১০ কোটি রিঙ্গিত বা ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রদান করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ৩ কোটি ৪০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে বিদেশি শ্রমবাজার নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। মালয়েশিয়ার জাতীয় নীতি কৌশলে কম দক্ষ বিদেশি শ্রমিকদের ওপর ‘ক্রমাগত নির্ভরতা’ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ব্যবহারকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন এই নীতি মধ্যম স্তরের প্রবাসী শ্রমের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে স্থানীয় কর্মী বাহিনী গড়ে তোলার নীতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার ওপর নির্ভর করবে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের প্রভাব।
রিপোর্টারের নাম 
























