ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

কর্নেল ওসমানী যেভাবে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হয়ে উঠেছিলেন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত নির্বিচার গণহত্যার পর রাজনৈতিক সমঝোতার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত এই সামরিক অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে বাঙালিরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাঙালি সেনারা বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিরোধ ও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যান। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুর দিকে তারা সংগঠিত হতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে মুক্তিবাহিনীর মতো একটি সুসংহত বাহিনী গড়ে ওঠে।

সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী এই বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সৈন্যদের কাছে ‘পাপা টাইগার’ নামে পরিচিত কর্নেল ওসমানী, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন বছর আগেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে তিনি পুনরায় সামরিক পোশাকে ফিরে আসেন এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি হয়ে ওঠেন।

কর্নেল ওসমানীর সৈনিক জীবন ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি ১৯১৮ সালে সুনামগঞ্জের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান তৎকালীন ইংরেজ সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে ওসমানীর শৈশব কেটেছে আসাম ও সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে। সেখানে স্কুল-কলেজ শেষ করার পর তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের স্বনামধন্য আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৩৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ ‘বাংলাপিডিয়া’ অনুসারে, স্নাতক পাসের পর এমএজি ওসমানী একইসঙ্গে দুটি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন—একটি ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের এবং অন্যটি সেনা বাহিনীর। উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরির সুযোগ পেলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের সামরিক বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, চাকরিতে যোগদানের দুই বছরের মধ্যেই তিনি মেজর পদে উন্নীত হন এবং ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার নিযুক্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোল ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়লে, মি. ওসমানীর নেতৃত্বাধীন ব্যাটালিয়ন…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থনৈতিক সংকটে ইরান: উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে খাদ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

কর্নেল ওসমানী যেভাবে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হয়ে উঠেছিলেন

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত নির্বিচার গণহত্যার পর রাজনৈতিক সমঝোতার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত এই সামরিক অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে বাঙালিরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাঙালি সেনারা বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিরোধ ও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যান। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুর দিকে তারা সংগঠিত হতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে মুক্তিবাহিনীর মতো একটি সুসংহত বাহিনী গড়ে ওঠে।

সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী এই বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সৈন্যদের কাছে ‘পাপা টাইগার’ নামে পরিচিত কর্নেল ওসমানী, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন বছর আগেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে তিনি পুনরায় সামরিক পোশাকে ফিরে আসেন এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি হয়ে ওঠেন।

কর্নেল ওসমানীর সৈনিক জীবন ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি ১৯১৮ সালে সুনামগঞ্জের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান তৎকালীন ইংরেজ সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে ওসমানীর শৈশব কেটেছে আসাম ও সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে। সেখানে স্কুল-কলেজ শেষ করার পর তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের স্বনামধন্য আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৩৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ ‘বাংলাপিডিয়া’ অনুসারে, স্নাতক পাসের পর এমএজি ওসমানী একইসঙ্গে দুটি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন—একটি ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের এবং অন্যটি সেনা বাহিনীর। উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরির সুযোগ পেলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের সামরিক বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, চাকরিতে যোগদানের দুই বছরের মধ্যেই তিনি মেজর পদে উন্নীত হন এবং ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার নিযুক্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোল ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়লে, মি. ওসমানীর নেতৃত্বাধীন ব্যাটালিয়ন…