একবার ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিং কমানো এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিল জনপ্রিয় হস্ত ও কারুশিল্প ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আড়ং। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের পণ্যের সঙ্গে আর বিনামূল্যে ব্যাগ সরবরাহ করছে না। এই পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হলেও, গত সাত মাসে আড়ং গ্রাহকদের কাছে ব্যাগ বিক্রি করে প্রায় তিন কোটি টাকা আয় করেছে। একইসাথে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে কাগজের ব্যাগের ব্যবহার।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সাত মাসে আড়ং প্রায় ২৩ লাখ ১২ হাজার পেপার ব্যাগ বিক্রি করেছে, যার মাধ্যমে আয় হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার ৮১২ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে প্রায় ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ব্যাগ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, সাত মাসে প্রায় ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার কাগজের ব্যাগের ব্যবহার কমেছে, যা আড়ংয়ের হিসাব মতে প্রায় ছয় হাজার গাছ রক্ষার সমতুল্য।
আড়ং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাগ বিক্রির এই অর্থ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশগত উদ্যোগে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাকের অতিদরিদ্র উত্তরণ কর্মসূচির আওতায় ৪০০ অতি-দরিদ্র নারীর মধ্যে ৮০০টি মেহগনি ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ। এছাড়া, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধার ও বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণে ৫০ লাখ টাকা এবং জাপানি ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র বনাঞ্চল তৈরির ‘মিশন গ্রিন’ উদ্যোগে আরও ৫০ লাখ টাকা সহায়তা দেবে আড়ং।
আড়ংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, কাগজের ব্যাগ পচনশীল হলেও, এর উৎপাদনে বিপুল সংখ্যক গাছ কাটা হয়। আমরা চাই মানুষ ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে আসার পুরনো সংস্কৃতিতে ফিরে আসুক। তিনি আরও জানান, আড়ং কখনোই পণ্যের মূল্যের সাথে ব্যাগের দাম যুক্ত করেনি। আগে বিনামূল্যে দেওয়ার কারণে অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাগ নিতেন, যা অপচয় বাড়াতো। বর্তমানে, গ্রাহকরা ব্যাগ না আনলে বিলের সাথে ১৫ টাকা ক্যাশব্যাক পাচ্ছেন, যা পরিবেশ সুরক্ষায় আরও উৎসাহিত করছে।
রিপোর্টারের নাম 
























