ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

আলোচিত ‘আয়নাঘর’ এর হোতা, ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান মামুন খালেদ গ্রেপ্তার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ‘আয়নাঘর’ এর হোতা এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এর সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার গভীর রাতে মিরপুর ডিওএইচএস-এর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম এই অভিযান পরিচালনা করেন। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে ডিবি সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অধীনে রয়েছেন।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন, ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়েছেন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ডিজিএফআইয়ে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত একটি সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও, সজীব ওয়াজেদ জয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ আছে। শুধু তাই নয়, শতাধিক সেনা কর্মকর্তাকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে চাকরিচ্যুত করা এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর পেছনেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। ২০১২ সালে মেজর জিয়াকে গুম করার ঘটনায়ও তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম পরিকল্পনাকারীও তিনি ছিলেন বলে জানা গেছে।

অবৈধ শেয়ার ব্যবসা, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রায় দেড় বছর আগে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। গত মে মাসে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে ‘খুনে বাহিনীতে’ পরিণত করার ক্ষেত্রে মামুন খালেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথেও তার বিশেষ সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। তার এই গ্রেপ্তার বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থনৈতিক সংকটে ইরান: উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে খাদ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

আলোচিত ‘আয়নাঘর’ এর হোতা, ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান মামুন খালেদ গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০২:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ‘আয়নাঘর’ এর হোতা এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এর সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার গভীর রাতে মিরপুর ডিওএইচএস-এর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম এই অভিযান পরিচালনা করেন। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে ডিবি সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অধীনে রয়েছেন।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন, ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়েছেন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ডিজিএফআইয়ে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত একটি সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও, সজীব ওয়াজেদ জয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ আছে। শুধু তাই নয়, শতাধিক সেনা কর্মকর্তাকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে চাকরিচ্যুত করা এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর পেছনেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। ২০১২ সালে মেজর জিয়াকে গুম করার ঘটনায়ও তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম পরিকল্পনাকারীও তিনি ছিলেন বলে জানা গেছে।

অবৈধ শেয়ার ব্যবসা, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রায় দেড় বছর আগে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। গত মে মাসে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে ‘খুনে বাহিনীতে’ পরিণত করার ক্ষেত্রে মামুন খালেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথেও তার বিশেষ সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। তার এই গ্রেপ্তার বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।