মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:১৪ পূর্বাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ফিলিপাইনে ধেয়ে আসছে আরেকটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়

  • হালনাগাদ সময় : ০১:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

সুপার টাইফুন ‘কালমেগি’-এর তাণ্ডবের রেশ কাটতে না কাটতেই ফিলিপাইনে আঘাত হানতে যাচ্ছে ‘ফাং-ওয়ং’ নামে আরও একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।

ধারণা করা হচ্ছে, রবিবার (আজ) দিনের শেষ নাগাদ এটি স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে।

এরই মধ্যে দেশটির পূর্ব ও উত্তরাঞ্চল থেকে এক লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ফিলিপাইনের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে লুজন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সর্বোচ্চ ৫ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখানো হচ্ছে। রাজধানী ম্যানিলা ও এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে ৩ নম্বর সংকেত জারি রাখা হয়েছে।

সুপার টাইফুন ‘ফাং-ওয়ং’ বর্তমানে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বেগে (স্থিতিশীল বাতাস) এবং সর্বোচ্চ ২৩১ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া নিয়ে এগিয়ে আসছে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, রবিবার রাতেই ঘূর্ণিঝড়টি মধ্য লুজনের অরোরা প্রদেশে আছড়ে পড়তে পারে।

ফিলিপাইনের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুট মিলিয়ে ৩০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লুজনের উপকূলের কাছাকাছি ক্যাটানডুয়ানেস দ্বীপে রবিবার সকাল থেকেই ঝড়ের প্রভাব শুরু হয়েছে।

মাত্র কয়েকদিন আগেই ‘কালমেগি’ নামে একটি ঘূর্ণিঝড় দেশটিতে তাণ্ডব চালিয়েছিল, যার আঘাতে প্রায় ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে আবার ‘ফাং-ওয়ং’ আঘাত হানতে যাচ্ছে।

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় এক ব্রিফিংয়ে ‘পাগাসা’-এর (ফিলিপাইনের আবহাওয়া সংস্থা) একজন কর্মকর্তা জানান, ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চলে এরই মধ্যে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়ে গেছে।

যদিও দেশের বেশিরভাগ এলাকাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তবে ক্যাটানডুয়ানেসের মতো যেসব জায়গায় সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোকে নিয়ে উদ্বেগ বেশি।

ফিলিপাইন সরকার চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘কালমেগি’-তে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার অভিযান আপাতত থামিয়ে দিয়েছে। তারা নতুন এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজে মনোযোগ দিয়েছে।

গত সপ্তাহের টাইফুন ‘কালমেগি’-এর আঘাতে ফিলিপাইনে অন্তত ২০৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ১০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ।

‘কালমেগি’-এর আঘাত এবং আসন্ন এই ঝড়ের প্রস্তুতির জন্য ফিলিপাইন সরকার দেশটিতে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইন বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ। প্রতি বছর এখানে গড়ে প্রায় ২০টি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, যার মধ্যে অর্ধেকই সরাসরি দেশটিতে আঘাত হানে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে: হুমায়ুন কবীর

28 October 2026

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে, ফল মেনে নেব: বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ফিলিপাইনে ধেয়ে আসছে আরেকটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়

হালনাগাদ সময় : ০১:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

সুপার টাইফুন ‘কালমেগি’-এর তাণ্ডবের রেশ কাটতে না কাটতেই ফিলিপাইনে আঘাত হানতে যাচ্ছে ‘ফাং-ওয়ং’ নামে আরও একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।

ধারণা করা হচ্ছে, রবিবার (আজ) দিনের শেষ নাগাদ এটি স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে।

এরই মধ্যে দেশটির পূর্ব ও উত্তরাঞ্চল থেকে এক লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ফিলিপাইনের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে লুজন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সর্বোচ্চ ৫ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখানো হচ্ছে। রাজধানী ম্যানিলা ও এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে ৩ নম্বর সংকেত জারি রাখা হয়েছে।

সুপার টাইফুন ‘ফাং-ওয়ং’ বর্তমানে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বেগে (স্থিতিশীল বাতাস) এবং সর্বোচ্চ ২৩১ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া নিয়ে এগিয়ে আসছে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, রবিবার রাতেই ঘূর্ণিঝড়টি মধ্য লুজনের অরোরা প্রদেশে আছড়ে পড়তে পারে।

ফিলিপাইনের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুট মিলিয়ে ৩০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লুজনের উপকূলের কাছাকাছি ক্যাটানডুয়ানেস দ্বীপে রবিবার সকাল থেকেই ঝড়ের প্রভাব শুরু হয়েছে।

মাত্র কয়েকদিন আগেই ‘কালমেগি’ নামে একটি ঘূর্ণিঝড় দেশটিতে তাণ্ডব চালিয়েছিল, যার আঘাতে প্রায় ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে আবার ‘ফাং-ওয়ং’ আঘাত হানতে যাচ্ছে।

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় এক ব্রিফিংয়ে ‘পাগাসা’-এর (ফিলিপাইনের আবহাওয়া সংস্থা) একজন কর্মকর্তা জানান, ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চলে এরই মধ্যে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়ে গেছে।

যদিও দেশের বেশিরভাগ এলাকাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তবে ক্যাটানডুয়ানেসের মতো যেসব জায়গায় সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোকে নিয়ে উদ্বেগ বেশি।

ফিলিপাইন সরকার চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘কালমেগি’-তে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার অভিযান আপাতত থামিয়ে দিয়েছে। তারা নতুন এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজে মনোযোগ দিয়েছে।

গত সপ্তাহের টাইফুন ‘কালমেগি’-এর আঘাতে ফিলিপাইনে অন্তত ২০৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ১০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ।

‘কালমেগি’-এর আঘাত এবং আসন্ন এই ঝড়ের প্রস্তুতির জন্য ফিলিপাইন সরকার দেশটিতে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইন বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ। প্রতি বছর এখানে গড়ে প্রায় ২০টি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, যার মধ্যে অর্ধেকই সরাসরি দেশটিতে আঘাত হানে।

Share this news as a Photo Card