ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

মোংলায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ছয় সদস্য গ্রেপ্তার, চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার

বাগেরহাটের মোংলা ও রামপাল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মোংলা থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের এই সফল অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বুধবার (১০ জুন) মোংলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইনের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) ইমামুল ইসলাম, এসআই সোলায়মান আক্কাস, এএসআই তারিকুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স মোংলা ও রামপাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রামপালের গৌরম্ভা এলাকার রনি হাওলাদার (২০), দিগরাজ এলাকার সজিব আহমেদ জয় (২৫), মোংলার দিগরাজ ব্যাংক রোড এলাকার সাজেদুল ইসলাম (২০), বুড়িরডাঙ্গা এলাকার নাজমুল শেখ (২৭), রামপালের রনসেন এলাকার মেহেদী হাসান (২৪) এবং ফকিরহাট উপজেলার কাঁঠালতলা এলাকার তানভীর হোসেন শাওন (৩৪)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসানের বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোংলা বন্দরের ওয়ান ব্যাংক-সংলগ্ন এলাকা থেকে তানভীর হোসেন শাওনের হেফাজতে থাকা আরও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে মোট চারটি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে মোংলা, রামপালসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রি ও পাচার করে আসছিল। জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির আরও কয়েকজন সদস্য ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে। স্থানীয়রা পুলিশের এই অভিযানকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। পুলিশের এমন ধারাবাহিক অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধ এবং চোর চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে মোংলা থানা। এই অভিযান তারই অংশ। আমরা অপরাধীদের ধরতে বদ্ধপরিকর।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ

মোংলায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ছয় সদস্য গ্রেপ্তার, চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার

আপডেট সময় : ০২:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বাগেরহাটের মোংলা ও রামপাল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মোংলা থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের এই সফল অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বুধবার (১০ জুন) মোংলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইনের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) ইমামুল ইসলাম, এসআই সোলায়মান আক্কাস, এএসআই তারিকুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স মোংলা ও রামপাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রামপালের গৌরম্ভা এলাকার রনি হাওলাদার (২০), দিগরাজ এলাকার সজিব আহমেদ জয় (২৫), মোংলার দিগরাজ ব্যাংক রোড এলাকার সাজেদুল ইসলাম (২০), বুড়িরডাঙ্গা এলাকার নাজমুল শেখ (২৭), রামপালের রনসেন এলাকার মেহেদী হাসান (২৪) এবং ফকিরহাট উপজেলার কাঁঠালতলা এলাকার তানভীর হোসেন শাওন (৩৪)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসানের বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোংলা বন্দরের ওয়ান ব্যাংক-সংলগ্ন এলাকা থেকে তানভীর হোসেন শাওনের হেফাজতে থাকা আরও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে মোট চারটি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে মোংলা, রামপালসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রি ও পাচার করে আসছিল। জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির আরও কয়েকজন সদস্য ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে। স্থানীয়রা পুলিশের এই অভিযানকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। পুলিশের এমন ধারাবাহিক অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধ এবং চোর চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে মোংলা থানা। এই অভিযান তারই অংশ। আমরা অপরাধীদের ধরতে বদ্ধপরিকর।’