ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ভারত মহাসাগরে ৫ মিলিয়ন বছরের প্রাচীন তিমির সমাধিক্ষেত্র আবিষ্কার

ভারত মহাসাগরের অতল গহ্বরে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন, গভীরতম এবং বিস্তৃত তিমির সমাধিক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। এই স্থানে প্রায় ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ বছরেরও বেশি পুরোনো তিমির জীবাশ্মের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সাধারণত মৃত তিমি সমুদ্রতলে চার কিলোমিটারের কম গভীরতায় পাওয়া গেলেও, নবআবিষ্কৃত এই ক্ষেত্রটি প্রায় সাত কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং শত শত মাইল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন, ইতালি ও নিউজিল্যান্ডের একটি যৌথ গবেষক দল ডায়ামান্টিনা ফ্র্যাকচার জোনে এই অনুসন্ধান চালায়। একটি বিশেষ ডুবোযানের সাহায্যে সমুদ্রতলে ৩২ বার অভিযান চালিয়ে তারা প্রায় ৪৮৫টি তিমির জীবাশ্মের স্থান শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে ৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন বছর আগের একটি বিলুপ্ত প্রজাতির তিমির খুলি এবং একটি অ্যান্টার্কটিক মিঙ্কে তিমির পূর্ণাঙ্গ কঙ্কালও উদ্ধার করা হয়েছে।

পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডক্টর জিওভান্নি বিয়ানুচ্চি এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, এটি প্রমাণ করে যে চরম প্রতিকূল পরিবেশেও জীবন বিকশিত হতে পারে। সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন কপলি বিষয়টিকে বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছেন, কারণ এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৮০০টি কঙ্কাল পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার পৃথিবীর অজানা জীববৈচিত্র্য বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন দেশের যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপ: ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

ভারত মহাসাগরে ৫ মিলিয়ন বছরের প্রাচীন তিমির সমাধিক্ষেত্র আবিষ্কার

আপডেট সময় : ০১:০৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ভারত মহাসাগরের অতল গহ্বরে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন, গভীরতম এবং বিস্তৃত তিমির সমাধিক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। এই স্থানে প্রায় ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ বছরেরও বেশি পুরোনো তিমির জীবাশ্মের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সাধারণত মৃত তিমি সমুদ্রতলে চার কিলোমিটারের কম গভীরতায় পাওয়া গেলেও, নবআবিষ্কৃত এই ক্ষেত্রটি প্রায় সাত কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং শত শত মাইল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন, ইতালি ও নিউজিল্যান্ডের একটি যৌথ গবেষক দল ডায়ামান্টিনা ফ্র্যাকচার জোনে এই অনুসন্ধান চালায়। একটি বিশেষ ডুবোযানের সাহায্যে সমুদ্রতলে ৩২ বার অভিযান চালিয়ে তারা প্রায় ৪৮৫টি তিমির জীবাশ্মের স্থান শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে ৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন বছর আগের একটি বিলুপ্ত প্রজাতির তিমির খুলি এবং একটি অ্যান্টার্কটিক মিঙ্কে তিমির পূর্ণাঙ্গ কঙ্কালও উদ্ধার করা হয়েছে।

পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডক্টর জিওভান্নি বিয়ানুচ্চি এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, এটি প্রমাণ করে যে চরম প্রতিকূল পরিবেশেও জীবন বিকশিত হতে পারে। সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন কপলি বিষয়টিকে বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছেন, কারণ এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৮০০টি কঙ্কাল পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার পৃথিবীর অজানা জীববৈচিত্র্য বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।