ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নারী দিবসের চেতনায় বাংলাদেশের নারীরা: সংগ্রাম, সাফল্য ও আগামীর স্বপ্ন

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে নারীরা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন। পোশাক শিল্পের অগণিত শ্রমিক থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষাদানে—সর্বত্রই নারীর সরব উপস্থিতি এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে। তবে এই ক্ষমতায়নের পথ মসৃণ নয়, বরং তাতে মিশে আছে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সামাজিক প্রতিকূলতা এবং পরিবার ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষার নিরন্তর প্রচেষ্টা।

পোশাক কারখানার একজন সুইং অপারেটর রাবেয়া খাতুন ১৫ বছর ধরে এই শিল্পে কাজ করছেন। তিনি জানান, কারখানার ভেতরের নিরাপত্তা আগের চেয়ে উন্নত হলেও কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নারী শ্রমিকদের মনে অজানা ভয় কাজ করে। কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাবের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য সংসার পরিচালনায় এক বিরাট চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের অধিকার ও আইন সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হলেও ন্যায্য পাওনা আদায় করতে গেলে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় ছুটি চাইতে গেলে অনেক সময় খারাপ ব্যবহার বা চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। আমরা শুধু কাজের জায়গায় নিরাপত্তা, শ্রমের সঠিক মূল্য এবং সম্মানের সঙ্গে কাজ করার অধিকার চাই।’

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল সুমাইয়া আড়াই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বাড়ি ছেড়ে একা নারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমাজের কিছু মানুষের নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হলেও তিনি দমে যাননি। সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তায় তিনি সাহস জুগিয়েছেন। পুলিশ বিভাগে তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সমাজের নির্যাতিত ও অবহেলিত নারীদের পাশে দাঁড়ানো। অনেক নারী লজ্জাবশত বা ভয়ে পুরুষ পুলিশের কাছে তাদের সমস্যা খুলে বলতে পারেন না, কিন্তু তারা সুমাইয়ার কাছে স্বচ্ছন্দে সবকিছু বলতে পারেন। তাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করতে পেরে তিনি পেশাগতভাবে গর্ববোধ করেন। কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন থাকলেও জনবলের তুলনায় জায়গার স্বল্পতার কারণে অনেককেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ

নারী দিবসের চেতনায় বাংলাদেশের নারীরা: সংগ্রাম, সাফল্য ও আগামীর স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০২:১৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে নারীরা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন। পোশাক শিল্পের অগণিত শ্রমিক থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষাদানে—সর্বত্রই নারীর সরব উপস্থিতি এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে। তবে এই ক্ষমতায়নের পথ মসৃণ নয়, বরং তাতে মিশে আছে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সামাজিক প্রতিকূলতা এবং পরিবার ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষার নিরন্তর প্রচেষ্টা।

পোশাক কারখানার একজন সুইং অপারেটর রাবেয়া খাতুন ১৫ বছর ধরে এই শিল্পে কাজ করছেন। তিনি জানান, কারখানার ভেতরের নিরাপত্তা আগের চেয়ে উন্নত হলেও কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নারী শ্রমিকদের মনে অজানা ভয় কাজ করে। কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাবের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য সংসার পরিচালনায় এক বিরাট চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের অধিকার ও আইন সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হলেও ন্যায্য পাওনা আদায় করতে গেলে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় ছুটি চাইতে গেলে অনেক সময় খারাপ ব্যবহার বা চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। আমরা শুধু কাজের জায়গায় নিরাপত্তা, শ্রমের সঠিক মূল্য এবং সম্মানের সঙ্গে কাজ করার অধিকার চাই।’

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল সুমাইয়া আড়াই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বাড়ি ছেড়ে একা নারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমাজের কিছু মানুষের নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হলেও তিনি দমে যাননি। সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তায় তিনি সাহস জুগিয়েছেন। পুলিশ বিভাগে তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সমাজের নির্যাতিত ও অবহেলিত নারীদের পাশে দাঁড়ানো। অনেক নারী লজ্জাবশত বা ভয়ে পুরুষ পুলিশের কাছে তাদের সমস্যা খুলে বলতে পারেন না, কিন্তু তারা সুমাইয়ার কাছে স্বচ্ছন্দে সবকিছু বলতে পারেন। তাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করতে পেরে তিনি পেশাগতভাবে গর্ববোধ করেন। কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন থাকলেও জনবলের তুলনায় জায়গার স্বল্পতার কারণে অনেককেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে।