ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ সোমালি রেফারি আর্তানের, তবুও বীরোচিত সংবর্ধনা

বিশ্বকাপের মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন সোমালিয়ার ফুটবল রেফারি ওমর আর্তান। ফিফার চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়ে তিনি প্রথম সোমালি কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সমস্ত বৈধ কাগজপত্র ও ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা নিশ্চিত করেছে যে, ওমর আর্তান এই টুর্নামেন্টে কোনো প্রশিক্ষণ বা ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। মায়ামি বিমানবন্দরে প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সীমান্ত কর্মকর্তারা তাকে প্রবেশাধিকার দেননি। আর্তান জানান, তার কাছে রেফারিং ক্যারিয়ারের সমস্ত প্রমাণপত্র ও ফিফার আনুষ্ঠানিক নথিপত্র ছিল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তাদের সমস্যা আমার দেশকে নিয়ে। যা হওয়ার হয়ে গেছে, আর সেটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল।’

স্বদেশে ফিরে ওমর আর্তান যখন মোগাদিসু বিমানবন্দরে অবতরণ করেন, তখন শত শত সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে তাকে বীরের বেশে স্বাগত জানান। মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও, তার দেশের মানুষ তাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে। সব হারিয়েও আর্তান ভেঙে পড়েননি। তিনি সোমালিয়ার তরুণদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েছেন: ‘আল্লাহ চাইলে আমি পরের বিশ্বকাপে থাকব। সোমালিয়া আমাদের দেশ—সুসময় হোক বা দুঃসময়। আমি আমাদের তরুণদের বলতে চাই, নিজেদের দেশ নিয়ে আশা হারায়ো না।’ আর্তানের এই দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা এবং অদম্য মানসিকতা বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ

বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ সোমালি রেফারি আর্তানের, তবুও বীরোচিত সংবর্ধনা

আপডেট সময় : ০২:১৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন সোমালিয়ার ফুটবল রেফারি ওমর আর্তান। ফিফার চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়ে তিনি প্রথম সোমালি কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সমস্ত বৈধ কাগজপত্র ও ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা নিশ্চিত করেছে যে, ওমর আর্তান এই টুর্নামেন্টে কোনো প্রশিক্ষণ বা ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। মায়ামি বিমানবন্দরে প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সীমান্ত কর্মকর্তারা তাকে প্রবেশাধিকার দেননি। আর্তান জানান, তার কাছে রেফারিং ক্যারিয়ারের সমস্ত প্রমাণপত্র ও ফিফার আনুষ্ঠানিক নথিপত্র ছিল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তাদের সমস্যা আমার দেশকে নিয়ে। যা হওয়ার হয়ে গেছে, আর সেটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল।’

স্বদেশে ফিরে ওমর আর্তান যখন মোগাদিসু বিমানবন্দরে অবতরণ করেন, তখন শত শত সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে তাকে বীরের বেশে স্বাগত জানান। মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও, তার দেশের মানুষ তাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে। সব হারিয়েও আর্তান ভেঙে পড়েননি। তিনি সোমালিয়ার তরুণদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েছেন: ‘আল্লাহ চাইলে আমি পরের বিশ্বকাপে থাকব। সোমালিয়া আমাদের দেশ—সুসময় হোক বা দুঃসময়। আমি আমাদের তরুণদের বলতে চাই, নিজেদের দেশ নিয়ে আশা হারায়ো না।’ আর্তানের এই দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা এবং অদম্য মানসিকতা বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে।