ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

মাঠের তারকারা এখন বাজারের সম্রাট: ২০২৬ বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক চিত্র

আধুনিক ফুটবলে আবেগের পাশাপাশি অর্থনীতিও একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ, যেখানে ৪৮টি দেশ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করবে, সেখানে মাঠে নামবে কয়েক বিলিয়ন ইউরো মূল্যের এক চলমান সম্পদও। এই বিশ্বকাপে এমন অনেক ফুটবলার রয়েছেন যাদের বাজারমূল্য কোনো কোনো দেশের বার্ষিক বাজেটের চেয়েও বেশি। তাদের পায়ে কেবল বল নয়, বরং ক্লাব মালিকদের বিনিয়োগ, স্পনসরদের স্বপ্ন এবং বিশ্ব ফুটবলের অর্থনীতির বিশাল চাকা ঘুরছে।

বাজারমূল্যের নতুন রাজারা
একসময় ট্রান্সফার বাজার মানেই ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি কিংবা নেইমারের মতো তারকারা। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তরুণ প্রতিভারা। বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি একাদশ সাজাতে গেলে সামনে আসবে কয়েকটি পরিচিত নাম—জুড বেলিংহ্যাম, লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভিরৎস কিংবা বুকায়ো সাকার মতো তারকারা। তাদের বাজারমূল্য কেবল বর্তমান পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে না, বরং তাদের বয়স, সম্ভাবনা এবং বাণিজ্যিক আকর্ষণের ওপরও ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

সবাইকে ছাড়িয়ে রাজা ইয়ামাল
আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন স্পেনের উদীয়মান তারকা লামিনে ইয়ামাল। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গবেষণা কেন্দ্র (সিআইইএস) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইয়ামালের বাজারমূল্য প্রায় ৩৪৩ মিলিয়ন ইউরো, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারদের তালিকার শীর্ষে নিয়ে গেছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, যার বাজারমূল্য ২৫৫ মিলিয়ন ইউরো। অন্যদিকে, একসময় শীর্ষস্থান দখল করে থাকা ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০১ মিলিয়ন ইউরো।

বিশ্বকাপ: শুধু ট্রফির মঞ্চ নয়, অর্থনীতির প্রদর্শনীও
বিশ্বকাপ কেবল ট্রফি জয়ের মঞ্চ নয়, এটি ফুটবলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক প্রদর্শনীও। ২০০৬ বিশ্বকাপে ফাবিও কানাভারো, ২০১৪ সালে হামেস রদ্রিগেজ, এবং ২০২২ সালে এনজো ফার্নান্দেজ—বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর তাদের বাজারমূল্য আকাশছোঁয়া হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপেও একই দৃশ্য দেখা যেতে পারে। কোনো অখ্যাত তরুণ খেলোয়াড় হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ১০০ মিলিয়ন ইউরোর ফুটবলার হয়ে উঠতে পারেন।

অর্থের বাইরে আরেকটি গল্প
তবুও, বাজারমূল্যই সবকিছু নয়। বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, সবচেয়ে দামি দল সব সময় চ্যাম্পিয়ন হয় না। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা দলগত শক্তিতে ভর করে ট্রফি জিতেছিল। ২০১৮ সালের উদাহরণও এর ব্যতিক্রম নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ

মাঠের তারকারা এখন বাজারের সম্রাট: ২০২৬ বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক চিত্র

আপডেট সময় : ০২:১৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আধুনিক ফুটবলে আবেগের পাশাপাশি অর্থনীতিও একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ, যেখানে ৪৮টি দেশ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করবে, সেখানে মাঠে নামবে কয়েক বিলিয়ন ইউরো মূল্যের এক চলমান সম্পদও। এই বিশ্বকাপে এমন অনেক ফুটবলার রয়েছেন যাদের বাজারমূল্য কোনো কোনো দেশের বার্ষিক বাজেটের চেয়েও বেশি। তাদের পায়ে কেবল বল নয়, বরং ক্লাব মালিকদের বিনিয়োগ, স্পনসরদের স্বপ্ন এবং বিশ্ব ফুটবলের অর্থনীতির বিশাল চাকা ঘুরছে।

বাজারমূল্যের নতুন রাজারা
একসময় ট্রান্সফার বাজার মানেই ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি কিংবা নেইমারের মতো তারকারা। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তরুণ প্রতিভারা। বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি একাদশ সাজাতে গেলে সামনে আসবে কয়েকটি পরিচিত নাম—জুড বেলিংহ্যাম, লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভিরৎস কিংবা বুকায়ো সাকার মতো তারকারা। তাদের বাজারমূল্য কেবল বর্তমান পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে না, বরং তাদের বয়স, সম্ভাবনা এবং বাণিজ্যিক আকর্ষণের ওপরও ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

সবাইকে ছাড়িয়ে রাজা ইয়ামাল
আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন স্পেনের উদীয়মান তারকা লামিনে ইয়ামাল। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গবেষণা কেন্দ্র (সিআইইএস) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইয়ামালের বাজারমূল্য প্রায় ৩৪৩ মিলিয়ন ইউরো, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারদের তালিকার শীর্ষে নিয়ে গেছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, যার বাজারমূল্য ২৫৫ মিলিয়ন ইউরো। অন্যদিকে, একসময় শীর্ষস্থান দখল করে থাকা ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০১ মিলিয়ন ইউরো।

বিশ্বকাপ: শুধু ট্রফির মঞ্চ নয়, অর্থনীতির প্রদর্শনীও
বিশ্বকাপ কেবল ট্রফি জয়ের মঞ্চ নয়, এটি ফুটবলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক প্রদর্শনীও। ২০০৬ বিশ্বকাপে ফাবিও কানাভারো, ২০১৪ সালে হামেস রদ্রিগেজ, এবং ২০২২ সালে এনজো ফার্নান্দেজ—বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর তাদের বাজারমূল্য আকাশছোঁয়া হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপেও একই দৃশ্য দেখা যেতে পারে। কোনো অখ্যাত তরুণ খেলোয়াড় হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ১০০ মিলিয়ন ইউরোর ফুটবলার হয়ে উঠতে পারেন।

অর্থের বাইরে আরেকটি গল্প
তবুও, বাজারমূল্যই সবকিছু নয়। বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, সবচেয়ে দামি দল সব সময় চ্যাম্পিয়ন হয় না। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা দলগত শক্তিতে ভর করে ট্রফি জিতেছিল। ২০১৮ সালের উদাহরণও এর ব্যতিক্রম নয়।