১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার স্মৃতি স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও ‘লালযাত্রা’র আয়োজন করেছে প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রাচ্যনাট। এবারের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, এটি কেবল ১৯৭১-এর শহীদদের নয়, বরং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবসহ বিশ্বজুড়ে গণহত্যার শিকার হওয়া সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে নিবেদিত। ২০১১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে পরিচালিত এই ব্যতিক্রমী পদযাত্রাটি আজ বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু হয়ে ফুলার রোডের স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে গিয়ে শেষ হবে।
আয়োজকদের মতে, লালযাত্রা কেবল একটি শোক মিছিল নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ। ফিলিস্তিন, লেবানন, ইউক্রেন ও সুদানের মতো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান মানবিক সংকটের বিরুদ্ধে সংহতি প্রকাশ করতেই এই দ্রোহী আয়োজন। লাল রঙের পোশাক পরে নাট্যকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই যাত্রায় অংশ নিয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতীক বহন করেন। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।
প্রাচ্যনাটের এই উদ্যোগটি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছে। আয়োজকরা মনে করেন, যে রক্তের পথ ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই আগামীর একটি বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ার শপথ নিতে হবে। এই লালযাত্রা সেই ত্যাগের মহিমাকে হৃদয়ে ধারণ করে মুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার এক অনন্য আহ্বান।
রিপোর্টারের নাম 

























