ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে আফগানিস্তান

কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা সফল না হওয়ার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাত সত্ত্বেও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তি বহাল থাকবে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) কোনও সমাধান ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তালেবান জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

শনিবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, দুই দিনের আলোচনা ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তালেবান আশা করেছিল, ইসলামাবাদ এমন বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রস্তাব দেবে, যা মৌলিক সমাধানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

তিনি বলেন, ‘আলোচনার সময় পাকিস্তান পক্ষ তাদের নিরাপত্তা সম্পর্কিত সমস্ত দায়িত্ব আফগান সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অথচ আফগানিস্তান বা নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনও দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখায়নি।’ 

মুজাহিদ অভিযোগ করেন, ‘পাকিস্তান দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অসহযোগিতামূলক আচরণ করেছে। যার ফলে আলোচনার কোনও ফলাফল আসেনি।’

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তালেবান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেনি এবং তা অব্যাহত থাকবে।

পাকিস্তান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে শুক্রবারই পাকিস্তান নিশ্চিত করেছে যে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়েছে এবং কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তাতে কোনও অগ্রগতি হয়নি।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ইসলামাবাদ তালেবান সরকারের এমন কোনও পদক্ষেপকে সমর্থন করবে না, যা আফগান জনগণ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থবিরোধী।

পাকিস্তান দাবি করে, তালেবান সরকার ২০২১ সালের দোহা শান্তিচুক্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর শুরু হওয়া সংঘর্ষে আফগানিস্তান সীমান্তে এ পর্যন্ত ৫০ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৪৪৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কাবুলে বিস্ফোরণে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হন। ওই বিস্ফোরণের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে আফগানিস্তান।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বলেছে, সংঘর্ষে তাদের ২৩ সেনা নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। তবে বেসামরিক লোকজনের হতাহত হওয়ার কোনও তথ্য তারা উল্লেখ করেনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে আফগানিস্তান

আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা সফল না হওয়ার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাত সত্ত্বেও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তি বহাল থাকবে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) কোনও সমাধান ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তালেবান জানায়, সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

শনিবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, দুই দিনের আলোচনা ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তালেবান আশা করেছিল, ইসলামাবাদ এমন বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রস্তাব দেবে, যা মৌলিক সমাধানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

তিনি বলেন, ‘আলোচনার সময় পাকিস্তান পক্ষ তাদের নিরাপত্তা সম্পর্কিত সমস্ত দায়িত্ব আফগান সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অথচ আফগানিস্তান বা নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনও দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখায়নি।’ 

মুজাহিদ অভিযোগ করেন, ‘পাকিস্তান দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অসহযোগিতামূলক আচরণ করেছে। যার ফলে আলোচনার কোনও ফলাফল আসেনি।’

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তালেবান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেনি এবং তা অব্যাহত থাকবে।

পাকিস্তান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে শুক্রবারই পাকিস্তান নিশ্চিত করেছে যে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়েছে এবং কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তাতে কোনও অগ্রগতি হয়নি।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ইসলামাবাদ তালেবান সরকারের এমন কোনও পদক্ষেপকে সমর্থন করবে না, যা আফগান জনগণ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থবিরোধী।

পাকিস্তান দাবি করে, তালেবান সরকার ২০২১ সালের দোহা শান্তিচুক্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর শুরু হওয়া সংঘর্ষে আফগানিস্তান সীমান্তে এ পর্যন্ত ৫০ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৪৪৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কাবুলে বিস্ফোরণে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হন। ওই বিস্ফোরণের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে আফগানিস্তান।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বলেছে, সংঘর্ষে তাদের ২৩ সেনা নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। তবে বেসামরিক লোকজনের হতাহত হওয়ার কোনও তথ্য তারা উল্লেখ করেনি।