ঢাকা ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই: গুজবে কান না দিতে জ্বালানিমন্ত্রীর আহ্বান

সরকারি ছুটির দিনকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের সংকট নেই। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও লোকমুখে ছড়ানো হচ্ছে যে, দেশে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ভিত্তিহীন তথ্যগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা মাত্র। ছুটির দিন বা ব্যাংক বন্ধ থাকার সাথে পাম্পে তেল সরবরাহের কোনো সম্পর্ক নেই; সারা দেশে সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে।

গুজবের প্রেক্ষিতে আজ ২৩ মার্চ (সোমবার) জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশবাসীর উদ্দেশে এক বার্তায় স্পষ্টভাবে বলেন, “তেলের সরবরাহ থাকবে, জনগণ তেল পাবে। প্যানিক না করে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে এবং পাম্পগুলোতে তেলের কোনো ঘাটতি নেই।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর দৈনন্দিন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ সন্তোষজনক । বর্তমানে দেশে ১২ দিনের ডিজেল , ৯ দিনের অকটেন এবং ১১ দিনের পেট্রোলের মজুত রয়েছে । পাশাপাশি ১৩ থেকে ১৪ দিনের অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলও মজুত আছে ।

এর বাইরেও সুপার পেট্রোকেমিক্যাল, অ্যাকোয়া রিফাইনারি, পারটেক্স পেট্রো এবং বসুন্ধরার মতো দেশীয় বেসরকারি কোম্পানিগুলো এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ড নিয়মিত পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করছে । শুধু সুপার পেট্রোকেমিক্যাল থেকেই প্রায় ১৫ দিনের পেট্রোল ও অকটেনের জোগান পাওয়া যাচ্ছে

আমদানি পাইপলাইনেও রয়েছে পর্যাপ্ত তেল। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় সাড়ে ৬ দিনের ডিজেল নিয়ে ৩টি জাহাজ ২৫ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে । এছাড়াও ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল চলতি মাসেই দেশে আসবে

এমতাবস্থায়, জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ভিত্তিহীন সংবাদ বা সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকৃত সত্য তুলে ধরে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের সব সংবাদমাধ্যম ও নিউজ পোর্টালগুলোকে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থেকে ‘স্ক্রল নিউজ’ এবং বিশেষ সংবাদ প্রচারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাম্পে তেল নেই, জমিতে পানি নেই: রংপুরের বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির, দিশেহারা কৃষক

জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই: গুজবে কান না দিতে জ্বালানিমন্ত্রীর আহ্বান

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

সরকারি ছুটির দিনকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের সংকট নেই। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও লোকমুখে ছড়ানো হচ্ছে যে, দেশে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ভিত্তিহীন তথ্যগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা মাত্র। ছুটির দিন বা ব্যাংক বন্ধ থাকার সাথে পাম্পে তেল সরবরাহের কোনো সম্পর্ক নেই; সারা দেশে সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে।

গুজবের প্রেক্ষিতে আজ ২৩ মার্চ (সোমবার) জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশবাসীর উদ্দেশে এক বার্তায় স্পষ্টভাবে বলেন, “তেলের সরবরাহ থাকবে, জনগণ তেল পাবে। প্যানিক না করে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে এবং পাম্পগুলোতে তেলের কোনো ঘাটতি নেই।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর দৈনন্দিন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ সন্তোষজনক । বর্তমানে দেশে ১২ দিনের ডিজেল , ৯ দিনের অকটেন এবং ১১ দিনের পেট্রোলের মজুত রয়েছে । পাশাপাশি ১৩ থেকে ১৪ দিনের অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলও মজুত আছে ।

এর বাইরেও সুপার পেট্রোকেমিক্যাল, অ্যাকোয়া রিফাইনারি, পারটেক্স পেট্রো এবং বসুন্ধরার মতো দেশীয় বেসরকারি কোম্পানিগুলো এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ড নিয়মিত পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করছে । শুধু সুপার পেট্রোকেমিক্যাল থেকেই প্রায় ১৫ দিনের পেট্রোল ও অকটেনের জোগান পাওয়া যাচ্ছে

আমদানি পাইপলাইনেও রয়েছে পর্যাপ্ত তেল। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় সাড়ে ৬ দিনের ডিজেল নিয়ে ৩টি জাহাজ ২৫ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে । এছাড়াও ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল চলতি মাসেই দেশে আসবে

এমতাবস্থায়, জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ভিত্তিহীন সংবাদ বা সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকৃত সত্য তুলে ধরে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের সব সংবাদমাধ্যম ও নিউজ পোর্টালগুলোকে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থেকে ‘স্ক্রল নিউজ’ এবং বিশেষ সংবাদ প্রচারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।